বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

ঔষধের ব্র্যান্ড

Xarelta 15

Rivaroxaban

  • প্রস্তুতকারক Opsonin Pharma Limited
  • DGDA তে নিবন্ধিত
  • প্রেসক্রিপশন লাগবে
  • ১টি মাত্রা ও ধরন
  • ট্যাবলেট

মাত্রা, প্যাক ও দাম

Rivaroxaban 15 mgট্যাবলেট · ১৪ x ১ ব্লিস্টার প্যাক৳৩৫প্রতি ইউনিট

ঔষধটি সম্পর্কে

Rivaroxaban

ব্যবহার

রিভারক্সাবান একটি রক্ত পাতলা করার ঔষধ (অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট)। এটি ব্যবহার হয়:

  • হার্টের ভাল্ভের সমস্যা ছাড়া অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে (অনিয়মিত হৃদছন্দ) স্ট্রোক ও রক্ত জমাট প্রতিরোধে।
  • ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি, পায়ের শিরায় রক্ত জমাট) ও পালমোনারি এমবোলিজমের (পিই, ফুসফুসে রক্ত জমাট) চিকিৎসায় এবং এগুলো আবার হওয়া প্রতিরোধে।
  • হিপ বা হাঁটু প্রতিস্থাপন অপারেশনের পর রক্ত জমাট প্রতিরোধে।
  • কম মাত্রায় অ্যাসপিরিনের সাথে, করোনারি ধমনীর রোগ বা পায়ের ধমনীর রোগে কিছু রোগীর হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে।

কীভাবে কাজ করে

এটি ফ্যাক্টর টেন-এ (Xa) নামের একটি প্রোটিনকে আটকায়, যা রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দরকার। ফলে ক্ষতিকর রক্ত জমাট তৈরি হওয়া বা বড় হওয়া কঠিন হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মাত্রা রোগ ও কিডনির কার্যক্ষমতার উপর নির্ভর করে এবং ডাক্তার ঠিক করেন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা:

  • অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন: দিনে ১ বার ২০ mg, রাতের খাবারের সাথে (কিডনির কার্যক্ষমতা কম হলে দিনে ১ বার ১৫ mg)।
  • ডিভিটি বা পিই চিকিৎসা: প্রথম ৩ সপ্তাহ দিনে ২ বার ১৫ mg, তারপর দিনে ১ বার ২০ mg; পরে ডাক্তার দিনে ১ বার ১০ mg এ নামাতে পারেন।
  • হিপ বা হাঁটু প্রতিস্থাপনের পর: অপারেশনের ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা পর থেকে দিনে ১ বার ১০ mg, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত।
  • ধমনীর রোগে অ্যাসপিরিনের সাথে: দিনে ২ বার ২.৫ mg।

১৫ mg ও ২০ mg ট্যাবলেট খাবারের সাথে খান; ২.৫ mg ও ১০ mg খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। গিলতে না পারলে খাওয়ার ঠিক আগে ট্যাবলেট গুঁড়ো করে পানি বা আপেলের পিউরির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। প্রতিদিন একই সময়ে খান। ডাক্তার না বললে বন্ধ করবেন না, কারণ এতে স্ট্রোক বা রক্ত জমাটের ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ (ওয়ারফারিন, হেপারিন, এনোক্সাপারিন, অ্যাপিক্সাবান, ডাবিগাট্রান): রক্তক্ষরণের ঝুঁকি অনেক বাড়ে; ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ঔষধ বদলানোর সময় ছাড়া একসাথে নেওয়া হয় না।
  • অ্যান্টিপ্লেটলেট ঔষধ (অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল, টিকাগ্রেলর), আইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশক, এবং ফ্লুক্সেটিন বা সারট্রালিনের মতো বিষণ্নতার ঔষধ: রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, পোসাকোনাজল এবং রিটোনাভিরের মতো এইচআইভির ঔষধ: রিভারক্সাবানের মাত্রা বাড়ায়; সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।
  • রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল ও সেন্ট জন'স ওয়ার্ট: রিভারক্সাবানের মাত্রা কমায় এবং কার্যকারিতা কমাতে পারে।

কারা খাবেন না

  • সক্রিয় বড় রক্তক্ষরণ, বা রক্তক্ষরণের উচ্চ ঝুঁকি থাকলে (যেমন সাম্প্রতিক মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, সক্রিয় পাকস্থলীর আলসার, বা সম্প্রতি মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড বা চোখের অপারেশন)।
  • রক্তক্ষরণের প্রবণতাসহ লিভারের রোগ।
  • অন্য অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্টের সাথে, ঔষধ বদলানোর সময় ছাড়া।
  • গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
  • রিভারক্সাবানে এলার্জি থাকলে।
  • যান্ত্রিক হার্ট ভাল্ভ বা অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোম থাকলে এটি সুপারিশ করা হয় না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রক্তক্ষরণ: নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, সহজে কালশিটে পড়া, মাসিকে বেশি রক্ত যাওয়া, এবং রক্ত বন্ধ হতে বেশি সময় লাগা। এছাড়া রক্তস্বল্পতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও চুলকানি হতে পারে। কালো বা আলকাতরার মতো পায়খানা, লাল বা গাঢ় বাদামি প্রস্রাব, রক্তবমি বা কফির গুঁড়োর মতো বমি, কাশির সাথে রক্ত, রক্ত পড়া বন্ধ না হলে, তীব্র মাথাব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা, অবশ ভাব, বিভ্রান্তি বা কথা বলতে বা দেখতে সমস্যা হলে, অথবা পড়ে গেলে বা মাথায় আঘাত পেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করবেন না। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং গর্ভবতী হলে সাথে সাথে ডাক্তারকে জানান। এই ঔষধ খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না; ডাক্তার বিকল্প সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন।

সতর্কতা

প্রত্যেক ডাক্তার ও দন্তচিকিৎসককে জানান যে আপনি রিভারক্সাবান খান, বিশেষ করে অপারেশন, দাঁতের চিকিৎসা বা মেরুদণ্ডে ইনজেকশনের আগে; অল্প সময়ের জন্য বন্ধ রাখার দরকার হতে পারে। কিডনি বা লিভারের রোগ, পাকস্থলীর আলসার, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা আগে রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান। এই ঔষধ চলাকালীন স্পাইনাল বা এপিডিউরাল অ্যানেস্থেসিয়ায় কদাচিৎ মেরুদণ্ডের চারপাশে রক্ত জমাট হতে পারে; পিঠে ব্যথা, অবশ ভাব বা পায়ে দুর্বলতা হলে সাথে সাথে জানান। রক্ত পাতলা করার ঔষধ খান, এমন একটি কার্ড বা নোট সাথে রাখুন। কোনো ডোজ বাদ পড়লে প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলুন বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন; ডিভিটি চিকিৎসার দিনে ২ বারের পর্যায়ে নির্দেশনা অনুযায়ী ছাড়া পূরণ করতে দ্বিগুণ ডোজ খাবেন না।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

মাত্রাতিরিক্ত সেবনে গুরুতর রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। রক্তক্ষরণ শুরু না হলেও সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন। প্রয়োজনে হাসপাতালে এর প্রভাব উল্টে দেওয়ার চিকিৎসা দেওয়া যায়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট; সরাসরি ফ্যাক্টর Xa ইনহিবিটর।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Rivaroxaban এর সব ব্র্যান্ড

Rivaroxaban এর অন্য ব্র্যান্ড

অন্য কোম্পানির একই জেনেরিক। ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ ছাড়া ব্র্যান্ড বদলাবেন না।

সব দেখুন

বিকল্প ব্র্যান্ড

একই ঔষধ, একই মাত্রা ও ধরনের অন্য ব্র্যান্ড, কম দাম আগে। ব্র্যান্ড বদলানোর আগে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।

দাম সর্বশেষ যাচাই: ১২

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।