Rizatriptan
ব্যবহার
রিজাট্রিপটান মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হয়ে গেলে তা সারাতে ব্যবহৃত হয়, অরা (মাথাব্যথার আগে চোখে আলো ঝলকানোর মতো সতর্ক সংকেত) থাকুক বা না থাকুক। এটি মাথাব্যথা এবং বমিভাব, আলো ও শব্দে অস্বস্তির মতো উপসর্গ কমায়। এটি মাইগ্রেন প্রতিরোধ করে না এবং অন্য ধরনের মাথাব্যথায় ব্যবহার হয় না।
কীভাবে কাজ করে
মাইগ্রেনের সময় মস্তিষ্কের চারপাশের রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং স্নায়ু থেকে ব্যথা ও ফোলা সৃষ্টিকারী পদার্থ বের হয়। রিজাট্রিপটান একটি ট্রিপটান ঔষধ যা সেরোটোনিন (5-HT1B ও 5-HT1D) রিসেপ্টরে কাজ করে রক্তনালি সংকুচিত করে এবং ব্যথা সৃষ্টিকারী পদার্থের নিঃসরণ বন্ধ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলেই ১০ mg। ব্যথা আবার ফিরে এলে প্রথম মাত্রার অন্তত ২ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় মাত্রা নেওয়া যায়। চিকিৎসক অন্যভাবে না বললে ২৪ ঘণ্টায় ২০ mg এর বেশি নেবেন না। যারা প্রোপ্রানোলল খান তাদের সাধারণত ৫ mg দেওয়া হয়। ট্যাবলেট পানি দিয়ে গিলে খান; মুখে গলে যাওয়া ট্যাবলেট জিভের ওপর রেখে গলতে দিন। প্রথম মাত্রায় একেবারেই কাজ না হলে একই আক্রমণের জন্য আরেক মাত্রা নেবেন না, চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য কোনো ট্রিপটান বা এরগোটামিনের মতো এরগট ঔষধ নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিজাট্রিপটান নেবেন না। এমএও ইনহিবিটর জাতীয় অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টের সাথে বা তা বন্ধের ২ সপ্তাহের মধ্যে এটি ব্যবহার করবেন না। প্রোপ্রানোলল রিজাট্রিপটানের মাত্রা বাড়ায়, তাই কম মাত্রা দেওয়া হয়। ফ্লুওক্সেটিন, সারট্রালিন বা ভেনলাফ্যাক্সিনের মতো এসএসআরআই বা এসএনআরআই এর সাথে নিলে বিরল ক্ষেত্রে সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে।
কারা খাবেন না
অ্যানজাইনা বা আগে হার্ট অ্যাটাকের মতো হৃদরোগ, আগে স্ট্রোক বা মিনি স্ট্রোক, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, পা বা অন্ত্রে রক্তপ্রবাহের ঘাটতি, হেমিপ্লেজিক বা ব্যাসিলার মাইগ্রেন, গুরুতর লিভার বা কিডনি রোগ অথবা রিজাট্রিপটানে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, ক্লান্তি, মুখ শুকানো, বমিভাব এবং বুক, গলা, ঘাড় বা চোয়ালে ঝিনঝিন, গরম, ভারী বা চাপ ধরা অনুভূতি। এগুলো সাধারণত হালকা ও অল্প সময়ের।
বুকে ব্যথা বা চাপ না কমলে, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, শরীরের এক পাশে হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশ ভাব, কথা বলতে কষ্ট, পেটে তীব্র ব্যথা, সেরোটোনিন সিনড্রোমের লক্ষণ (অস্থিরতা, জ্বর, ঘাম, কাঁপুনি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন) অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলেই কেবল ব্যবহার করা উচিত। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে; সেবনের পর ২৪ ঘণ্টা বুকের দুধ না খাওয়ালে শিশুর সংস্পর্শ কমে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে নিশ্চিত হোন যে মাথাব্যথাটি মাইগ্রেন। ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসক আগে হৃৎপিণ্ড পরীক্ষা করতে পারেন। মাসে ১০ দিন বা তার বেশি মাইগ্রেনের ঔষধ নিলে ঔষধের অতিব্যবহারজনিত মাথাব্যথা হতে পারে। ঔষধটি ঘুম ঘুম ভাব বা মাথা ঘোরা আনতে পারে, তাই প্রভাব না বুঝে গাড়ি চালাবেন না। কিছু মুখে গলে যাওয়া ট্যাবলেটে ফিনাইলঅ্যালানিন থাকে, যা ফিনাইলকিটোনুরিয়া রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি রিজাট্রিপটান নিলে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ধীর হৃৎস্পন্দন ও বুকে উপসর্গ হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত সেবনের সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মাইগ্রেনবিরোধী ঔষধ, সিলেক্টিভ সেরোটোনিন (5-HT1) রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট (ট্রিপটান)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মুখে গলে যাওয়া ট্যাবলেট ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ব্লিস্টারেই রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Rizatriptan এর সব ব্র্যান্ড