Bisoprolol Fumarate
ব্যবহার
বিসোপ্রোলল উচ্চ রক্তচাপ ও এনজাইনা (হৃৎপিণ্ডে রক্ত কম পৌঁছানোর কারণে বুকে ব্যথা) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। অন্য ঔষধের সাথে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল হার্ট ফেইলিওরেও এটি দেওয়া হয়, এবং এট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনে দ্রুত হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে ডাক্তার এটি দিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
বিসোপ্রোলল একটি কার্ডিওসিলেক্টিভ বিটা-ব্লকার, অর্থাৎ এটি মূলত হৃৎপিণ্ডের ওপর কাজ করে। এটি হৃৎপিণ্ডে অ্যাড্রেনালিনের প্রভাব আটকে দেয়, ফলে হৃৎস্পন্দন ধীর হয় ও হৃৎপিণ্ডকে কম কষ্ট করতে হয়। এতে রক্তচাপ কমে এবং হৃৎপিণ্ডের অক্সিজেনের চাহিদা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- উচ্চ রক্তচাপ ও এনজাইনায়: সাধারণত দিনে একবার ৫ mg; কারও ক্ষেত্রে ২.৫ mg দিয়ে শুরু। ডাক্তার দিনে একবার ১০ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। সর্বোচ্চ দিনে ২০ mg।
- হার্ট ফেইলিওরে: দিনে একবার ১.২৫ mg এর মতো কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে ডাক্তার কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে বাড়ান, সর্বোচ্চ দিনে একবার ১০ mg।
- শিশুদের ক্ষেত্রে: পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সকালে খাবারের আগে বা পরে পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তারের পরামর্শে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হবে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ভেরাপামিল ও ডিলটিয়াজেম হৃৎস্পন্দন খুব ধীর করে দিতে পারে। ফ্লেকাইনাইড ও অ্যামিওডারোনের মতো হৃৎস্পন্দনের ঔষধ, ডিগোক্সিন ও অন্য রক্তচাপের ঔষধ এর প্রভাব বাড়ায়। ক্লোনিডিন খেলে নিজে থেকে ক্লোনিডিন বন্ধ করবেন না। ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট খেলে রক্তে চিনি কমে যাওয়ার সতর্ক লক্ষণ এটি ঢেকে দিতে পারে। আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক এর কাজ কমাতে পারে। মেফ্লোকুইন ও ফিঙ্গোলিমোড হৃৎস্পন্দন আরও ধীর করতে পারে।
কারা খাবেন না
- হঠাৎ খারাপ হওয়া হার্ট ফেইলিওর, যার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা লাগে, বা হৃৎপিণ্ডজনিত শক থাকলে।
- পেসমেকার ছাড়া দ্বিতীয় বা তৃতীয় ডিগ্রির হার্ট ব্লক বা সিক সাইনাস সিনড্রোম থাকলে।
- হৃৎস্পন্দন খুব ধীর বা রক্তচাপ খুব কম হলে।
- তীব্র হাঁপানি বা তীব্র দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ থাকলে।
- হাত বা পায়ে রক্ত চলাচলের গুরুতর সমস্যা (তীব্র রেইনাডসসহ) থাকলে।
- চিকিৎসা না হওয়া ফিওক্রোমোসাইটোমা, মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস, বা বিসোপ্রোললে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, হাত-পা ঠান্ডা থাকা, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং নাড়ি ধীর হওয়া। হার্ট ফেইলিওরে প্রথমে মাত্রা বাড়ানোর সময় লক্ষণ কিছুটা বাড়তে পারে।
নাড়ি খুব ধীর হলে, অজ্ঞান হয়ে গেলে, বুকে শোঁ শোঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্ট বা গোড়ালি ফোলা বেড়ে গেলে, অথবা মুখ বা গলা ফোলার মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলে খাবেন; শিশুর বৃদ্ধি পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে, এবং জন্মের পর নবজাতকের হৃৎস্পন্দন ও রক্তে চিনি দেখা উচিত। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, তাই সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় পরামর্শ দেওয়া হয় না; ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
কখনও হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে এনজাইনা বা হার্ট ফেইলিওর খারাপ হতে পারে। ডায়াবেটিস, হালকা হাঁপানি বা ফুসফুসের রোগ, সোরিয়াসিস, থাইরয়েডের রোগ, প্রথম ডিগ্রির হার্ট ব্লক ও প্রিনজমেটালের এনজাইনায় সাবধানে ব্যবহার করুন। কিডনি বা লিভারের তীব্র রোগে সাধারণত দিনে ১০ mg এর বেশি দেওয়া হয় না। যেকোনো অপারেশনের আগে ডাক্তার বা দাঁতের ডাক্তারকে জানান। মাথা ঘোরা গাড়ি চালানোতে সমস্যা করতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে হৃৎস্পন্দন খুব ধীর, রক্তচাপ খুব কম, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, হার্ট ফেইলিওর খারাপ হওয়া ও রক্তে চিনি কমে যাওয়া হতে পারে। দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কার্ডিওসিলেক্টিভ বিটা-অ্যাড্রেনার্জিক ব্লকার (বিটা-ব্লকার)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Bisoprolol Fumarate এর সব ব্র্যান্ড