Testosterone
ব্যবহার
টেস্টোস্টেরন প্রধান পুরুষ যৌন হরমোন। ঔষধ হিসেবে এটি সেই পুরুষদের হরমোন প্রতিস্থাপনে ব্যবহৃত হয়, যাদের শরীর যথেষ্ট টেস্টোস্টেরন তৈরি করে না (পুরুষ হাইপোগোনাডিজম), যা উপসর্গ ও রক্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়। টেস্টোস্টেরন কম থাকলে যৌন ইচ্ছা কমা, ইরেকশনের সমস্যা, ক্লান্তি, মন খারাপ, পেশি ও হাড়ের শক্তি কমা এবং শরীরের লোম কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ছেলেদের দেরিতে বয়ঃসন্ধি ও আরও কিছু অবস্থায়ও এটি ব্যবহৃত হয়। এটি জেল, ইনজেকশন, ক্যাপসুল ও প্যাচ আকারে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
টেস্টোস্টেরন শরীরের ঘাটতি পূরণ করে। এটি বিভিন্ন টিস্যুর অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টরে যুক্ত হয়ে পুরুষসুলভ বৈশিষ্ট্য, যৌন ইচ্ছা ও ক্ষমতা, পেশি ও হাড়ের শক্তি, লোহিত কণিকা তৈরি এবং মেজাজ ও শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
টেস্টোস্টেরন একটি হরমোন চিকিৎসা এবং শুধু ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়; রক্ত পরীক্ষা দেখে ডাক্তার ধরন, মাত্রা ও সময় ঠিক করেন। জেল দিনে একবার পরিষ্কার, শুকনো ত্বকে কাঁধ, বাহুর উপরের অংশ বা পেটে (লেবেলের নির্দেশমতো) লাগান, তারপর হাত ধুয়ে ফেলুন এবং শুকিয়ে গেলে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন। ইনজেকশন নির্দিষ্ট বিরতিতে ডাক্তার বা নার্স মাংসপেশিতে দেন। মাত্রা ঠিক করতে রক্তের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। বডিবিল্ডিংয়ের জন্য বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া এটি ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ: কার্যকারিতা বাড়তে পারে, তাই রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা লাগতে পারে।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ঔষধ: রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে, মাত্রা বদলাতে হতে পারে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড: শরীরে পানি জমা ও ফোলা বাড়তে পারে।
- সাইক্লোস্পোরিন ও আরও কিছু ঔষধ: মাত্রা বদলাতে পারে।
কারা খাবেন না
প্রোস্টেট ক্যান্সার বা পুরুষের স্তন ক্যান্সার থাকলে বা সন্দেহ হলে, লিভারে টিউমার থাকলে, ক্যান্সারজনিত ক্যালসিয়াম খুব বেশি থাকলে, অথবা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে (কিছু ইনজেকশনে চিনাবাদাম বা সয়া তেল থাকে) টেস্টোস্টেরন ব্যবহার করবেন না। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো নারীরা এটি কখনো ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ প্রভাবের মধ্যে আছে ব্রণ, তৈলাক্ত ত্বক, জেল বা প্যাচ লাগানোর জায়গায় জ্বালা, লোহিত কণিকা বেড়ে যাওয়া, প্রোস্টেট বড় হওয়া, স্তনে ব্যথা বা বড় হওয়া, মেজাজের পরিবর্তন, মাথাব্যথা ও কোলেস্টেরলের পরিবর্তন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে শুক্রাণু উৎপাদন কমে এবং অণ্ডকোষ ছোট হতে পারে। শরীরে পানি জমা ও ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়ার সমস্যা (স্লিপ অ্যাপনিয়া) বাড়তে পারে।
বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা (রক্ত জমাট হতে পারে), মুখ বাঁকা হওয়া বা হাত দুর্বল হওয়ার মতো স্ট্রোকের লক্ষণ, ৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী ইরেকশন, প্রস্রাবে কষ্ট, চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
টেস্টোস্টেরন গর্ভের শিশুর, বিশেষ করে কন্যা শিশুর, ক্ষতি করতে পারে। জেল লাগানো ত্বকের সংস্পর্শ নারী ও শিশুদের এড়িয়ে চলতে হবে: ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের আগে জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন বা কাপড়ে ঢেকে রাখুন। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো নারীরা এটি ব্যবহার করবেন না।
সতর্কতা
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা, রক্তকণিকা, প্রোস্টেট (PSA), লিভার ও কোলেস্টেরলের নিয়মিত পরীক্ষা দরকার। হৃদরোগ, লিভার বা কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্লিপ অ্যাপনিয়া ও মৃগীতে সাবধানে ব্যবহার করুন। বয়স্ক পুরুষদের প্রোস্টেট সাবধানে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। উচ্চ মাত্রায় অপব্যবহারে হৃদযন্ত্র, লিভার ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুতর সমস্যা এবং নির্ভরতা হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ব্যবহার করলে মেজাজের বড় পরিবর্তন, শরীরে পানি জমা ও লোহিত কণিকা অনেক বেড়ে যেতে পারে। ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন; ভুলবশত অনেক বেশি ব্যবহার করলে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ যৌন হরমোন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো ও তাপ থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জেল শুকানোর আগ পর্যন্ত দাহ্য: আগুন থেকে দূরে রাখুন। ইনজেকশন ফ্রিজে রাখবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Testosterone এর সব ব্র্যান্ড