Zidovudine
ব্যবহার
জিডোভুডিন (AZT নামেও পরিচিত) একটি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ঔষধ, যা সবসময় অন্য এইচআইভি ঔষধের সাথে মিলিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের এইচআইভি সংক্রমণের চিকিৎসায় দেওয়া হয়। এইচআইভি আক্রান্ত মা থেকে গর্ভাবস্থা, প্রসব ও শৈশবের শুরুতে শিশুর মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতেও এটি ব্যবহৃত হয়। প্রায়ই এটি ল্যামিভুডিনের সাথে একই ট্যাবলেটে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এইচআইভি ভাইরাস বংশবৃদ্ধির জন্য রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ নামের একটি এনজাইম ব্যবহার করে। জিডোভুডিন এই এনজাইম আটকে দেয় (NRTI শ্রেণি), ফলে ভাইরাস কম বাড়ে। এতে রক্তে ভাইরাসের পরিমাণ কমে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরে আসতে সাহায্য করে। এটি এইচআইভি সারায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এইচআইভি বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিক সেভাবে খান। বয়স, ওজন, কিডনির অবস্থা, রক্তকণিকার পরিমাণ ও সঙ্গের অন্য ঔষধ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়। খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। প্রতিদিন একই সময়ে খান এবং কোনো ডোজ বাদ দেবেন না, কারণ ডোজ বাদ পড়লে ভাইরাস ঔষধে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
স্ট্যাভুডিনের সাথে এটি ব্যবহার করা যাবে না, কারণ একটি আরেকটির কাজ নষ্ট করে। গ্যানসিক্লোভির, ভ্যালগ্যানসিক্লোভির, উচ্চ মাত্রার কো-ট্রাইমক্সাজোল, পাইরিমেথামিন, ইন্টারফেরন ও কিছু ক্যান্সারের ঔষধের মতো রক্তকণিকা কমানো ঔষধের সাথে খেলে রক্তস্বল্পতা ও শ্বেতকণিকা কমার ঝুঁকি বাড়ে। রিবাভিরিন রক্তস্বল্পতা বাড়াতে পারে। প্রোবেনেসিড, ফ্লুকোনাজোল ও ভ্যালপ্রোইক অ্যাসিড এর মাত্রা বাড়াতে পারে, আর রিফাম্পিসিন কমাতে পারে। সব ঔষধ ও ভেষজ পণ্যের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
জিডোভুডিনে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা হিমোগ্লোবিন বা নিউট্রোফিল (শ্বেতকণিকা) খুব কম থাকলে এটি খাবেন না। নির্দিষ্ট লিভার বা রক্তের সমস্যায় আক্রান্ত নবজাতকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন হতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, খিদে কমা ও ঘুমের সমস্যা, যা প্রায়ই কয়েক সপ্তাহ পর কমে যায়। এটি রক্তস্বল্পতা (লোহিত কণিকা কমা) ও শ্বেতকণিকা কমাতে পারে, তাই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ব্যবহারে পেশির দুর্বলতা, শরীরের চর্বির বন্টনে পরিবর্তন এবং নখ বা ত্বক কালচে হতে পারে।
তীব্র ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট বা খুব ফ্যাকাশে ত্বক, জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ, পেটে ব্যথা ও বমিভাবসহ দ্রুত গভীর শ্বাস (ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের লক্ষণ), ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, পেশির তীব্র দুর্বলতা বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
শিশুকে এইচআইভি থেকে রক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে গর্ভাবস্থায় জিডোভুডিন ব্যবহার করা হয়। বুকের দুধ খাওয়ানো হবে কি না এবং কীভাবে, তা স্থানীয় এইচআইভি নির্দেশিকা ও মায়ের চিকিৎসার উপর নির্ভর করে; ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্তকণিকা ও লিভারের পরীক্ষা প্রয়োজন। লিভারের রোগ, হেপাটাইটিস বি বা সি, কিডনির রোগ বা রক্তকণিকা কম থাকলে ডাক্তারকে জানান। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরে আসার সময় পুরোনো সংক্রমণ বেড়ে উঠতে পারে। ঔষধ এইচআইভি ছড়ানো পুরোপুরি বন্ধ করে না, তাই সঙ্গীকে রক্ষার জন্য কনডম ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমিভাব, বমি, মাথাব্যথা, ঝিমুনি ও রক্তকণিকার সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল, নিউক্লিওসাইড রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ ইনহিবিটর (NRTI)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Zidovudine এর সব ব্র্যান্ড