Asenapine Maleate
ব্যবহার
অ্যাসেনাপিন ম্যালিয়েট একটি অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়:
- সিজোফ্রেনিয়া: এমন মানসিক রোগ যাতে অস্তিত্বহীন কিছু শোনা বা দেখা, অটল ভ্রান্ত বিশ্বাস ও এলোমেলো চিন্তা হতে পারে।
- বাইপোলার ১ রোগের মাঝারি থেকে তীব্র ম্যানিয়া পর্ব, একা বা লিথিয়াম বা ভ্যালপ্রোয়েটের মতো মুড স্টেবিলাইজারের সাথে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাসেনাপিন একটি অ্যাটিপিক্যাল (দ্বিতীয় প্রজন্মের) অ্যান্টিসাইকোটিক। এটি মস্তিষ্কের রাসায়নিক ডোপামিন ও সেরোটোনিনের কিছু রিসেপ্টর আটকে দেয়। এতে মস্তিষ্কের সংকেতের ভারসাম্য ফেরে, ফলে হ্যালুসিনেশন, অস্থিরতা, দ্রুত চিন্তা ও অতিরিক্ত উত্তেজনার মতো উপসর্গ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মনোরোগ বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ীই খাবেন; প্রত্যেকের জন্য মাত্রা আলাদাভাবে ঠিক ও সমন্বয় করা হয়। ট্যাবলেটটি জিভের নিচে রেখে পুরোপুরি গলে যেতে দিন, কয়েক সেকেন্ড লাগে। গিলবেন, চিবাবেন বা গুঁড়া করবেন না, কারণ গিলে ফেললে ভালো কাজ করে না। খাওয়ার পর ১০ মিনিট কিছু খাবেন বা পান করবেন না। সাধারণত দিনে দুইবার খাওয়া হয়। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; প্রয়োজনে ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালকোহল, ঘুমের ঔষধ, কড়া ব্যথানাশক ও অন্যান্য ঘুম আনা ঔষধ তন্দ্রা বাড়াতে পারে।
- ফ্লুভোক্সামিন অ্যাসেনাপিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- অ্যাসেনাপিন প্যারোক্সেটিন ও একই লিভার এনজাইমে ভাঙে এমন কিছু ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- রক্তচাপের ঔষধের সাথে রক্তচাপ বেশি কমে যেতে পারে।
- হৃদস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ (যেমন কিছু অ্যান্টিঅ্যারিদমিক, মক্সিফ্লক্সাসিন বা অন্য অ্যান্টিসাইকোটিক) ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- লেভোডোপা ও পারকিনসনের অনুরূপ ঔষধ কম কাজ করতে পারে।
কারা খাবেন না
অ্যাসেনাপিন বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ঘুম ঘুম ভাব, ডোজের পরপর মুখ বা জিভ অবশ বা ঝিনঝিন লাগা, স্বাদ বদলে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ওজন বাড়া, ক্ষুধা বাড়া, অস্থিরতা বা নড়াচড়া করতে থাকার তাগিদ, শক্ত ভাব বা কাঁপুনি এবং উদ্বেগ। রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল বাড়তে পারে এবং দাঁড়ালে মাথা ঘুরতে পারে।
জিভ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট বা তীব্র ফুসকুড়ি হলে; পেশি শক্ত হয়ে উচ্চ জ্বর, ঘাম ও বিভ্রান্তি হলে (নিউরোলেপটিক ম্যালিগন্যান্ট সিনড্রোম); বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা অজ্ঞান হলে; খিঁচুনি হলে; অথবা মুখ, জিভ বা হাত পায়ের অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া হলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করা হয়। গর্ভের শেষ ৩ মাসে এই ঔষধের সংস্পর্শে আসা শিশুর জন্মের পর কাঁপুনি, শক্ত ভাব, ঘুম ঘুম ভাব, শ্বাস বা খাওয়ার সমস্যা হতে পারে। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না; ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত নয়।
সতর্কতা
- ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত বয়স্কদের অ্যান্টিসাইকোটিকে স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি; ডিমেনশিয়াজনিত আচরণের জন্য অ্যাসেনাপিন অনুমোদিত নয়।
- তন্দ্রা হতে পারে; প্রভাব না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, নিম্ন রক্তচাপ, মৃগী, লিভারের রোগ বা পারকিনসন রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- ডাক্তার ওজন, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও রক্তকণিকা পরীক্ষা করতে পারেন।
- অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলুন।
- নিজের ক্ষতি করার চিন্তা বা মেজাজ খারাপ হতে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র ঘুম ঘুম ভাব, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক নড়াচড়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন বা নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যাটিপিক্যাল (দ্বিতীয় প্রজন্মের) অ্যান্টিসাইকোটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে রক্ষার জন্য মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Asenapine Maleate এর সব ব্র্যান্ড