ব্যবহার
অ্যালমিট্রিন বাইসমেসিলেট বাংলাদেশে রাউবাসিনের সাথে মিশ্র ঔষধ হিসেবে পাওয়া যায়। এই মিশ্রণ বয়স্কদের মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাওয়ার সাথে সম্পর্কিত লক্ষণ, যেমন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া এবং মাথা ঘোরা, স্ট্রোকের পর সেরে ওঠার সময়, এবং কিছু অন্তঃকর্ণ (ভারসাম্য) ও চোখের (রেটিনা) রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। উপকারের প্রমাণ সীমিত এবং এটি ডিমেনশিয়ার চিকিৎসা নয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যালমিট্রিন ঘাড়ের ধমনীতে অক্সিজেনের মাত্রা শনাক্তকারী সেন্সর (ক্যারোটিড বডি) উদ্দীপিত করে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস উন্নত হয় এবং ফুসফুসে বাতাস ও রক্তপ্রবাহের মিল ভালো হয়, ফলে রক্তে বেশি অক্সিজেন পৌঁছায়। রাউবাসিন ছোট রক্তনালী শিথিল করে। দুটি মিলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা মিশ্র ট্যাবলেটের ১টি করে দিনে ২ বার, সকাল ও সন্ধ্যায় খাবারের পরে। চিকিৎসক নিয়মিত চিকিৎসা পর্যালোচনা করবেন; সাধারণত এটি দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়া হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালমিট্রিনযুক্ত অন্য ঔষধের সাথে খাবেন না। রক্তচাপ কমানোর ঔষধ এবং এমএও ইনহিবিটর (পুরনো ধরনের একটি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট) এর সাথে সাবধানে ব্যবহার করুন। আপনি যেসব ঔষধ খান সব চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
অ্যালমিট্রিন বা রাউবাসিনে অ্যালার্জি থাকলে, গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, তীব্র লিভার রোগ থাকলে, অথবা আগে থেকেই হাত-পায়ের স্নায়ুর ক্ষতি (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি) থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- বমিভাব, বুক জ্বালা, পেটের অস্বস্তি
- পেট ভারী লাগা, ক্ষুধা কমে যাওয়া
- বুক ধড়ফড়, ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা
- দীর্ঘ ব্যবহারে: ওজন কমে যাওয়া এবং পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব বা জ্বালাসহ স্নায়ুর ক্ষতি
পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব বা দুর্বলতা, অকারণে ওজন কমা, শ্বাসকষ্ট, অথবা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। এসব লক্ষণে ঔষধ বন্ধ করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করবেন না।
সতর্কতা
স্নায়ুর ক্ষতি ও ওজন কমার ঝুঁকির কারণে কিছু দেশে এই মিশ্রণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুধু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য এবং ওজনসহ নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবহার করা উচিত। লিভারের রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে দ্রুত শ্বাস, বুক ধড়ফড়, নিম্ন রক্তচাপ ও অস্থিরতা হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহে ব্যবহৃত শ্বাসযন্ত্র উদ্দীপক (রক্তনালী প্রসারকের সাথে মিশ্র)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।