ব্যবহার
অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড একটি অ্যান্টাসিড, যা এসিডিটি, বুক জ্বালা, বদহজম ও পেটের অস্বস্তি কমাতে এবং গ্যাস্ট্রাইটিস ও পেপটিক আলসারের ব্যথা উপশমে ব্যবহার হয়। এটি প্রায় সবসময় ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইডের সাথে থাকে, আর গ্যাস ও পেট ফাঁপার জন্য প্রায়ই সিমেথিকোনও যোগ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড নিষ্ক্রিয় করে, ফলে জ্বালা ও ব্যথা কমে। অ্যালুমিনিয়াম কোষ্ঠকাঠিন্য করতে পারে আর ম্যাগনেসিয়াম পায়খানা নরম করে, তাই দুটি একসাথে দিয়ে ভারসাম্য রাখা হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পণ্যভেদে শক্তি আলাদা, তাই লেবেলের নির্দেশনা মানুন। প্রাপ্তবয়স্ক: সাসপেনশন সাধারণত ১০ থেকে ২০ ml, বা ১ থেকে ২টি ট্যাবলেট ভালো করে চিবিয়ে, খাবারের ১ থেকে ৩ ঘণ্টা পরে ও ঘুমানোর আগে, অথবা উপসর্গ হলে, দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার। সাসপেনশন ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ২ সপ্তাহের বেশি নিয়মিত খাবেন না। শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যান্টাসিড অনেক ঔষধের শোষণ কমাতে পারে, যেমন টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন ও অন্যান্য কুইনোলোন, আয়রন ট্যাবলেট, লেভোথাইরক্সিন, ডিগক্সিন, কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল ও কিছু এইচআইভির ঔষধ। অন্য ঔষধ অ্যান্টাসিডের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা পরে খান (কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে ৪ ঘণ্টা)।
কারা খাবেন না
কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে, কিডনির গুরুতর রোগ থাকলে, এবং রক্তে ফসফেট কম থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কোষ্ঠকাঠিন্য, অথবা ম্যাগনেসিয়ামের কারণে পাতলা পায়খানা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিন বেশি খেলে রক্তে ফসফেট কমে দুর্বলতা, অরুচি ও হাড়ে ব্যথা হতে পারে। রক্তবমি, কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, তীব্র বা বাড়তে থাকা পেটব্যথা, বা গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাঝে মাঝে সাধারণ মাত্রায় খাওয়া সাধারণত গ্রহণযোগ্য। নিয়মিত খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
কিডনির রোগ থাকলে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান, কারণ শরীরে অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম জমে যেতে পারে। তত্ত্বাবধান ছাড়া দীর্ঘদিন খাবেন না। উপসর্গ না কমলে, বারবার ফিরে এলে, বা সাথে ওজন কমা বা গিলতে কষ্ট থাকলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পাতলা পায়খানা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত সেবনে অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম জমে যেতে পারে। বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টাসিড।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাসপেনশন জমিয়ে ফেলবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।