ব্যবহার
অ্যামোনিয়াম বাইকার্বোনেট প্রধানত হজমের সম্মিলিত পাউডারে পাওয়া যায়, যেখানে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, জেনশিয়ান, আদা (জিঞ্জার) ও নাক্স ভমিকা থাকে। বদহজম, খাবারে অরুচি, পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং হালকা অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালায় এগুলো ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যামোনিয়াম বাইকার্বোনেট একটি মৃদু ক্ষার। এটি পাকস্থলীর কিছু অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি করে, যা ঢেকুরের মাধ্যমে পেট ভার ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। সম্মিলিত ঔষধে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট অ্যান্টাসিড প্রভাব বাড়ায়, আর তেতো ভেষজ জেনশিয়ান ও আদা রুচি ও হজম বাড়াতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পরিমাণ ঠিক পাতার নির্দেশ বা ডাক্তারের পরামর্শমতো ব্যবহার করুন, সাধারণত মাপা পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে খাবারের পরে। নির্দেশের বেশি খাবেন না এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ২ সপ্তাহের বেশি ব্যবহার করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যান্টাসিড কিছু ঔষধের শোষণ কমাতে পারে, যেমন আয়রন, টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, কিটোকোনাজোল ও লেভোথাইরক্সিন। এগুলোর সাথে অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন। অন্য অ্যান্টাসিড বা হজমের ঔষধের সাথে খাওয়ার আগে ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
কারা খাবেন না
- ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
- রক্ত আগে থেকেই বেশি ক্ষারীয় হলে (মেটাবলিক অ্যালকালোসিস)।
- ছোট শিশু, যদি না ডাক্তার পরামর্শ দেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ঢেকুর, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও হালকা পেটের অস্বস্তি। বেশি পরিমাণে খেলে বমি বমি ভাব হতে পারে।
রক্তবমি, কালো বা আলকাতরার মতো পায়খানা, পেটে তীব্র ব্যথা, গিলতে কষ্ট বা অকারণে ওজন কমলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন, কারণ এগুলোর সঠিক পরীক্ষা দরকার। ঔষধ খাওয়ার পর মাংসপেশি কাঁপা, শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি হলেও জরুরি সাহায্য নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা উচিত নয়, বিশেষ করে নাক্স ভমিকাযুক্ত সম্মিলিত পাউডার।
সতর্কতা
সোডিয়াম বাইকার্বোনেটযুক্ত ঔষধে অনেক সোডিয়াম থাকে, তাই উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিউর, কিডনির রোগ থাকলে বা কম লবণের খাবার খেতে হলে সাবধানে ব্যবহার করুন। নাক্স ভমিকাযুক্ত পাউডার কখনোই নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না। বদহজম বারবার ফিরে এলে বা ২ সপ্তাহে না কমলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্ত অতিরিক্ত ক্ষারীয় হয়ে বমি বমি ভাব, বমি, মাংসপেশি কাঁপা, টান ও বিভ্রান্তি হতে পারে। নাক্স ভমিকাযুক্ত ঔষধ বেশি খেলে বিপজ্জনক হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টাসিড ও হজমকারী (ক্ষারীয় উপাদান)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, পাত্রের মুখ শক্ত করে বন্ধ রেখে সংরক্ষণ করুন, কারণ তাপ ও আর্দ্রতায় এটি নষ্ট হয়। আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।