ব্যবহার
আনিসিড হলো অ্যানিস (পিম্পিনেলা অ্যানিসাম) গাছের শুকনো ফল, যা সাধারণত বীজ নামে পরিচিত। ইউনানি ও অন্যান্য প্রচলিত চিকিৎসায় পেট ফাঁপা, গ্যাস, বদহজম ও মোচড় দেওয়া পেটব্যথা (কলিক) কমাতে এবং কাশিতে কফ সহজে বের করতে এটি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শিশুদের পেটের অস্বস্তি কমানোর ভেষজ মিশ্রণে এটি প্রায়ই থাকে। এসব ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, তাই কোনো রোগ সারাতে এর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
কীভাবে কাজ করে
আনিসিডে অ্যানিথোল সমৃদ্ধ সুগন্ধি তেল থাকে। ধারণা করা হয় এটি অন্ত্রের পেশি শিথিল করে, ফলে আটকে থাকা গ্যাস বের হতে সাহায্য করে এবং মোচড় দেওয়া ব্যথা কমায়। শ্বাসনালীর কফ পাতলা করতেও এটি সাহায্য করতে পারে। অ্যানিথোলের সামান্য ইস্ট্রোজেন-সদৃশ প্রভাব আছে, তাই বেশি পরিমাণে ব্যবহারে সাবধানতা দরকার।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সাধারণত এটি মিশ্র ভেষজ পণ্যের অংশ হিসেবে খাওয়া হয়। লেবেলের নির্দেশ বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এবং সঙ্গে দেওয়া মাপার পাত্র দিয়ে সেবন করুন। শিশুদের ক্ষেত্রে লেবেলের নির্দেশ হুবহু মানুন এবং লেখা সংখ্যার চেয়ে বেশিবার দেবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন আনিস তেল মুখে খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খাবারে যতটুকু থাকে তাতে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। ঔষধ হিসেবে বেশি পরিমাণে নিলে এর ইস্ট্রোজেন-সদৃশ প্রভাব তাত্ত্বিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা ট্যামক্সিফেনের কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য ব্যবহার করেন, সবগুলোর কথা ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- আনিসিড বা এর সমগোত্রীয় গাছ যেমন মৌরি, শুলফা, জিরা, ধনিয়া, ক্যারাওয়ে, সেলারি বা গাজরে অ্যালার্জি থাকলে।
- স্তন, জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার বা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো হরমোন-সংবেদনশীল রোগ থাকলে, ডাক্তার অনুমতি না দিলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পরিমাণে আনিসিড সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। ত্বক, শ্বাসনালী বা পেটে অ্যালার্জি এবং বমিভাব হতে পারে। ঘন তেল পাকস্থলীতে জ্বালা করতে পারে এবং বেশি পরিমাণে ঝিমুনি বা খিঁচুনি ঘটাতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, সারা গায়ে ফুসকুড়ি উঠলে, খিঁচুনি হলে বা অস্বাভাবিক ঝিমুনি দেখা দিলে, বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে, দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
মসলা হিসেবে খাবারে আনিসিড নিরাপদ ধরা হয়, তবে ইস্ট্রোজেন-সদৃশ প্রভাবের কারণে গর্ভাবস্থায় ঔষধ হিসেবে বেশি পরিমাণে নেওয়া উচিত নয়। বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা আনিসিডযুক্ত ভেষজ পণ্য ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
ভেষজ পণ্য চিকিৎসার বিকল্প নয়। শিশু একটানা কাঁদলে, জ্বর বা বমি হলে, খেতে না চাইলে, পায়খানায় রক্ত গেলে বা পেট ফুলে গেলে ডাক্তার দেখান, কারণ এসবের সঠিক পরীক্ষা দরকার। লেবেলে লেখা মাত্রার বেশি দেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে, বিশেষ করে ঘন তেল, বমিভাব, বমি, ঝিমুনি এবং কদাচিৎ খিঁচুনি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন এবং পণ্যের প্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইউনানি ভেষজ উপাদান (বায়ুনাশক)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।