ব্যবহার
অ্যাপল ভিনেগার (অ্যাপল সাইডার ভিনেগার) আপেলের রস গাঁজিয়ে তৈরি হয়, যাতে প্রাকৃতিক চিনি অ্যাসিটিক অ্যাসিডে পরিণত হয়। এটি খাদ্যপূরক হিসেবে, প্রায়ই ওজন নিয়ন্ত্রণের পণ্যে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, হজম এবং খাওয়ার পর রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়। ওজন কমানোর প্রমাণ দুর্বল এবং ছোট গবেষণার ওপর ভিত্তি করে; কোনো উপকার হলেও তা স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার সাথেই বেশি কাজ করে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাসিটিক অ্যাসিড পাকস্থলী খালি হওয়ার গতি কিছুটা কমাতে পারে, ফলে পেট বেশিক্ষণ ভরা মনে হতে পারে এবং খাওয়ার পর রক্তে শর্করা বাড়া সামান্য কমতে পারে। এই প্রভাব সীমিত এবং সবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবন করুন। তরল ভিনেগার সবসময় এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খান, কখনো সরাসরি নয়; সাধারণত খাবারের সাথে বা ঠিক আগে খাওয়া হয়। ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট প্রচুর পানি দিয়ে গিলে খান। দাঁত রক্ষায় পরে পানি দিয়ে কুলি করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ইনসুলিন, মেটফরমিন বা গ্লিবেনক্লামাইডের মতো ডায়াবেটিসের ঔষধের রক্তে শর্করা কমানোর প্রভাব এটি বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে খেলে পটাসিয়াম কমে যেতে পারে, তাই ডিগোক্সিন এবং ফ্রুসেমাইড বা হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো মূত্রবর্ধক ঔষধের সাথে সাবধান থাকুন।
কারা খাবেন না
- সক্রিয় পেপটিক আলসার বা তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে।
- রক্তে পটাসিয়াম কম থাকলে।
- পাকস্থলী দেরিতে খালি হওয়া (গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস), যা দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে প্রায়ই হয়।
- শিশু, যদি না ডাক্তার পরামর্শ দেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বুক জ্বালাপোড়া, বমিভাব, গলায় জ্বালা এবং দাঁতের এনামেলের ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে পানিতে না মিশিয়ে খেলে। ট্যাবলেট গলায় আটকে গেলে পুড়ে যেতে পারে।
গিলতে ব্যথা বা কষ্ট, রক্তবমি, কালো পায়খানা, পেশির দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অথবা ঘাম, কাঁপুনি ও বিভ্রান্তির মতো রক্তে শর্করা খুব কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবারে সামান্য পরিমাণ ব্যবহার নিরাপদ বলে ধরা হয়। গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ওজন কমানোর সাপ্লিমেন্ট পরামর্শযোগ্য নয়, তাই ডাক্তার না বললে ঘন পণ্য এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস থাকলে শুরুর দিকে ঘন ঘন রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন। নির্ধারিত চিকিৎসার বদলে এটি ব্যবহার করবেন না। দাঁত রক্ষায় তরল পণ্য স্ট্র দিয়ে খান। হঠাৎ বা অকারণে ওজন পরিবর্তন হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে গলা ও পাকস্থলীতে পোড়া, বমি এবং পটাসিয়াম কমে যাওয়া হতে পারে। বিশেষ করে কোনো শিশু বেশি পরিমাণ তরল ভিনেগার খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ওজন নিয়ন্ত্রণের পণ্যে ব্যবহৃত খাদ্যপূরক (গাঁজানো ফলের ভিনেগার)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।