ব্যবহার
আজাদিরাকটা ইন্ডিকা হলো নিম গাছ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। নিম পাতা বা ছাল থেকে তৈরি ট্যাবলেট, ক্যাপসুল বা সিরাপ প্রচলিতভাবে ব্রণ, ফোড়া ও চুলকানির মতো ত্বকের সমস্যায়, তথাকথিত রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে এবং রক্তে শর্করা বেশি থাকা ব্যক্তিদের সহায়ক ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, এবং নিম ডায়াবেটিস, ত্বকের সংক্রমণ বা অন্য রোগের নির্ধারিত চিকিৎসার বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
নিমে নিম্বিন, নিম্বিডিন ও আজাদিরাকটিনের মতো অনেক কার্যকর উদ্ভিজ্জ উপাদান আছে। গবেষণাগারে ও ছোট গবেষণায় এগুলোর জীবাণুনাশক, ছত্রাকনাশক ও প্রদাহরোধী গুণ দেখা গেছে, এবং কিছু উপাদান রক্তে শর্করা সামান্য কমাতে পারে। মুখে খাওয়া নিমে মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রভাব কতটা কাজ করে তা ভালোভাবে প্রমাণিত নয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা নিবন্ধিত ইউনানি বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেবন করুন। লেবেলে লেখা পরিমাণের বেশি খাবেন না। নবজাতক বা ছোট শিশুকে কখনোই নিম, বিশেষ করে নিমের তেল, খাওয়াবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
নিম রক্তে শর্করা কমাতে পারে এবং মেটফরমিন, গ্লিবেনক্লামাইড বা ইনসুলিনের মতো ডায়াবেটিসের ঔষধের প্রভাব বাড়িয়ে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে পারে। এটি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উদ্দীপিত করতে পারে, ফলে সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস বা স্টেরয়েডের মতো রোগপ্রতিরোধ দমনকারী ঔষধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য খান, সব ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থায় বা সন্তান নিতে চাইলে (নিমের সাথে গর্ভপাত ও প্রজনন ক্ষমতা কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে)।
- নবজাতক ও ছোট শিশু।
- নিমে অ্যালার্জি থাকলে।
- অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে এমন ব্যক্তি, অথবা লুপাস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগ থাকলে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লেবেলের মাত্রায় অল্প সময় খেলে নিম সাধারণত সহ্য হয়, তবে বমি বমি ভাব, বমি, পেটের অস্বস্তি, ঝিমুনি ও ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। বেশি পরিমাণে বা দীর্ঘদিন খেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, রক্তে শর্করা কমার লক্ষণ (কাঁপুনি, ঘাম, বিভ্রান্তি) দেখা দিলে, ত্বক বা চোখ হলুদ হলে, খিঁচুনি হলে বা তীব্র বমি হলে, বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে, দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় মুখে নিম খাবেন না, কারণ এটি গর্ভপাত ঘটাতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই, তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস রোগীরা ঘন ঘন রক্তে শর্করা পরীক্ষা করবেন এবং কখনোই নির্ধারিত ঔষধ বন্ধ করবেন না। রক্তে শর্করায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের আগে নিম খাওয়া বন্ধ করুন। নিম নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজনন ক্ষমতা কমাতে পারে। ত্বকের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে বা জ্বর থাকলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নিমের তেল বা বেশি পরিমাণ নিম গিললে বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য; এতে বমি, ঝিমুনি, খিঁচুনি, রক্তে শর্করা কমে যাওয়া, লিভারের ক্ষতি ও অজ্ঞান হওয়া দেখা দিতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক ভেষজ প্রস্তুতি।
সংরক্ষণ
৩০°C তাপমাত্রার নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।