ব্যবহার
ব্যাসিলাস ক্লাউসি স্পোর একটি প্রোবায়োটিক (জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া)। ডায়রিয়ার চিকিৎসা ও প্রতিরোধে, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে বা অন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে হওয়া ডায়রিয়ায়, এবং বড় ও শিশুদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ফিরিয়ে আনতে এটি ব্যবহার করা হয়। এটি খাবার স্যালাইন (ORS) এর সাথে ব্যবহার করা হয়, এর বদলে নয়।
কীভাবে কাজ করে
এতে ব্যাসিলাস ক্লাউসি এর স্পোর থাকে, যা পাকস্থলীর অ্যাসিড ও অনেক সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকেও টিকে থাকে। অন্ত্রে গিয়ে স্পোরগুলো সক্রিয় ব্যাকটেরিয়ায় পরিণত হয়, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে, ক্ষতিকর জীবাণুর সাথে প্রতিযোগিতা করে এবং কিছু ভিটামিন, বিশেষ করে বি ভিটামিন, তৈরি করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
খাওয়ার সাসপেনশন ভায়ালের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত দিনে ২ থেকে ৩টি ভায়াল এবং শিশুরা দিনে ১ থেকে ২টি ভায়াল খায়, অথবা লেবেল বা ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী। ভায়াল ঝাঁকিয়ে খুলে সরাসরি খান অথবা সামান্য পানি, দুধ বা রসের সাথে মিশিয়ে খান। দিনের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে খান। অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে ব্যবহার করলে দুই ডোজ অ্যান্টিবায়োটিকের মাঝখানে খান। ক্যাপসুল লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী খান। সাসপেনশন কখনো ইনজেকশন হিসেবে দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
স্পোরগুলো বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়োটিকে টিকে থাকে, তবু অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজের মাঝখানে খাওয়াই ভালো। অন্য ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই।
কারা খাবেন না
- ব্যাসিলাস ক্লাউসি বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুব দুর্বল হলে বা সেন্ট্রাল ভেনাস লাইন থাকলে সাবধানে এবং শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত এটি খুব ভালোভাবে সহ্য হয়। ক্ষেত্রবিশেষে র্যাশ, চুলকানি বা আমবাতের মতো অ্যালার্জি হতে পারে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুব দুর্বল এমন মানুষের ক্ষেত্রে খুব কম ক্ষেত্রে এই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে রক্তে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।
মুখ বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, অথবা ডায়রিয়ার সাথে মলে রক্ত, বেশি জ্বর, পানিশূন্যতার লক্ষণ (মুখ খুব শুকনো, চোখ বসে যাওয়া, প্রস্রাব কম, ঝিমুনি) থাকলে বা শিশুর ডায়রিয়া ২ দিনের বেশি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি রক্তে শোষিত হয় না এবং গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত নিরাপদ বলে ধরা হয়, তবু ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
ডায়রিয়ার সময় ORS দিয়ে পানির ঘাটতি পূরণ করুন; পানিশূন্যতাই প্রধান বিপদ, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। ডায়রিয়া তীব্র হলে বা ভালো না হলে ডাক্তার দেখান। ভায়ালে ছোট কণা দেখা গেলে তা স্পোরের জট, এটি স্বাভাবিক।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি খেলে গুরুতর কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোবায়োটিক; ডায়রিয়ারোধী অণুজীব।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না। খোলা ভায়াল সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।