ব্যবহার
ক্যালসিয়াম যেসব কাজে ব্যবহার হয়:
- খাবার থেকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না পেলে ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়।
- অস্টিওপোরোসিস (হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হওয়া) ও অস্টিওম্যালেশিয়ার চিকিৎসায়, সাধারণত ভিটামিন ডি এর সাথে।
- গর্ভাবস্থা, বুকের দুধ খাওয়ানো, বেড়ে ওঠার বয়স ও বার্ধক্যে বাড়তি চাহিদা পূরণে।
- রক্তে ক্যালসিয়াম কমে গেলে (হাইপোক্যালসেমিয়া); মারাত্মক ক্ষেত্রে হাসপাতালে ইনজেকশন লাগে।
কিছু ক্যালসিয়াম লবণ বুকজ্বালার অ্যান্টাসিড হিসেবে, আবার কিডনি রোগে ফসফেটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের প্রধান খনিজ। পেশির সংকোচন, স্নায়ুর সংকেত পাঠানো, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখা ও রক্ত জমাট বাঁধার জন্যও এটি দরকার। ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, সাপ্লিমেন্ট: সাধারণত দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ mg এলিমেন্টাল ক্যালসিয়াম (প্যাকেটে লেখা আসল ক্যালসিয়ামের পরিমাণ), একবারে প্রায় ৫০০ mg এর বেশি নয়, ভাগ করে খান।
- ক্যালসিয়াম কার্বোনেট খাবারের সাথে খাওয়া ভালো; ক্যালসিয়াম সাইট্রেট খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়।
- কিডনি রোগ, রক্তে কম ক্যালসিয়াম ও শিশুদের ক্ষেত্রে: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- ইনজেকশন (যেমন ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট) হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন।
চুষে বা চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট চিবিয়ে খান, আর ইফারভেসেন্ট ট্যাবলেট নির্দেশনা অনুযায়ী পানিতে পুরোপুরি গুলে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ক্যালসিয়াম টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, লেভোথাইরক্সিন, আয়রন, জিংক, অ্যালেনড্রোনেট ও অন্যান্য বিসফসফোনেটের শোষণ কমায়। এগুলো ক্যালসিয়ামের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ ঘণ্টা পরে খান (লেভোথাইরক্সিন অন্তত ৪ ঘণ্টা ব্যবধানে; বিসফসফোনেট লিফলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী)।
- হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড ডাইইউরেটিক রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়াতে পারে।
- রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি হলে ডিগক্সিনের সাথে হৃদস্পন্দনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড ক্যালসিয়ামের শোষণ কমায়।
কারা খাবেন না
- রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে (হাইপারক্যালসেমিয়া) বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি গেলে।
- ক্যালসিয়ামযুক্ত কিডনির পাথর থাকলে (ডাক্তার না বললে)।
- কিডনির মারাত্মক অকার্যকারিতায়, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া।
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও হালকা পেটের অস্বস্তি। দীর্ঘদিন বেশি ক্যালসিয়াম খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যেতে পারে। রক্তে বেশি ক্যালসিয়ামের লক্ষণ (তীব্র বমি বমি ভাব বা বমি, প্রচণ্ড পিপাসা, বারবার প্রস্রাব, বিভ্রান্তি, পেশির দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন), কিডনির পাথরের মতো পেট বা কোমরে তীব্র ব্যথা, বা মারাত্মক এলার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণ মাত্রায় ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট প্রায়ই পরামর্শ দেওয়া হয়, বিশেষ করে খাবারে ক্যালসিয়াম কম থাকলে। মাত্রার ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
সতর্কতা
কিডনির রোগ, কিডনির পাথর, হৃদরোগ বা সারকয়ডোসিস থাকলে ডাক্তারকে জানান। পরামর্শকৃত মাত্রার বেশি খাবেন না, এবং অ্যান্টাসিডসহ সব ঔষধ থেকে আসা ক্যালসিয়াম হিসাব করুন। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে বমি বমি ভাব, বমি, পিপাসা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিভ্রান্তি ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খনিজ সাপ্লিমেন্ট (ক্যালসিয়াম প্রস্তুতি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইফারভেসেন্ট ট্যাবলেটের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।