ব্যবহার
ক্যাপসিকাম (মরিচের নির্যাস, যার সক্রিয় উপাদান ক্যাপসাইসিন) ত্বকে মাখার ক্রিম, জেল, তেল, বাম ও প্লাস্টারে ব্যবহৃত হয়। এটি পেশির ব্যথা, কোমর ব্যথা, গিঁট শক্ত হওয়া ও আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, এবং কিছু পণ্য দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুর ব্যথায়, যেমন শিংগলস (হারপিস জোস্টার) এর পরের ব্যথা বা ডায়াবেটিক স্নায়ুর ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। প্রায়ই এটি মিথাইল স্যালিসিলেট (উইন্টারগ্রিন) বা মেন্থলের মতো অন্য উপাদানের সাথে থাকে। এটি শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য।
কীভাবে কাজ করে
ক্যাপসাইসিন ত্বকের ব্যথা-অনুভবকারী স্নায়ুর প্রান্তে কাজ করে। প্রথমে এটি গরম বা জ্বালাভাব তৈরি করে। নিয়মিত ব্যবহারে এই স্নায়ুগুলোতে ব্যথার সংকেত বহনকারী একটি রাসায়নিকের (সাবসট্যান্স পি) পরিমাণ কমে এবং স্নায়ুগুলো কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, ফলে ব্যথা কম অনুভূত হয়। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় পূর্ণ উপকার পেতে ১ থেকে ২ সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহার লাগতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ব্যথার জায়গায় পাতলা করে লাগিয়ে আলতো করে ঘষুন, সাধারণত দিনে ৩ থেকে ৪ বার, অথবা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী। ব্যবহারের পরপরই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলুন (হাতেই চিকিৎসা না করলে) এবং চোখ, নাক বা মুখে হাত দেবেন না। কাটা বা জ্বালাযুক্ত ত্বকে লাগাবেন না। শক্ত ব্যান্ডেজ বা হিটিং প্যাড দিয়ে ঢাকবেন না, এবং লাগানোর ঠিক আগে বা পরে গরম পানিতে গোসল এড়িয়ে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই।
- একই জায়গায় একসাথে অন্য মলম, তাপের পণ্য বা ত্বকের চিকিৎসা ব্যবহার করবেন না।
- পণ্যে মিথাইল স্যালিসিলেটও থাকলে ওয়ারফারিনের সাথে সাবধান থাকুন।
কারা খাবেন না
- মরিচ, ক্যাপসাইসিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- কাটা, ক্ষতিগ্রস্ত, রোদে পোড়া বা সংক্রমিত ত্বকে।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশু, চিকিৎসক না বললে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লাগানোর জায়গায় জ্বালা, হুল ফোটানো বা গরম অনুভূতি ও লালভাব সাধারণ, বিশেষ করে প্রথম কয়েক দিনে, এবং নিয়মিত ব্যবহারে সাধারণত কমে যায়। অবশিষ্টাংশ শ্বাসের সাথে গেলে হাঁচি বা কাশি হতে পারে।
ত্বকে তীব্র জ্বালা, ফোসকা বা ফোলা, চোখে লাগার পর ব্যথা, শাঁ শাঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, অথবা মুখ বা গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ছোট জায়গায় ব্যবহার করলে খুব কমই শোষিত হয়, তবে গর্ভাবস্থায় এর নিরাপত্তা পুরোপুরি জানা নেই; শুধু চিকিৎসক বললে ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনের আশেপাশে লাগাবেন না এবং শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য।
- চোখে গেলে প্রচুর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ক্যাপসাইসিন পানিতে কম গলে, তাই ত্বক থেকে তুলতে কাপড়ে সামান্য ভোজ্য তেল নিয়ে মুছলে সাহায্য হয়।
- ব্যথা ৭ দিনের বেশি থাকলে, বাড়লে, অথবা ফোলা, লালভাব বা জ্বর থাকলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসক দেখান।
- শরীরের বড় অংশে বা যৌনাঙ্গের কাছে ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি লাগালে তীব্র জ্বালা ও ত্বকের জ্বালাভাব হতে পারে; সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, অথবা আগে ভোজ্য তেল দিয়ে মুছুন। গিলে ফেললে মুখে জ্বালা ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে; মুখ ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারযোগ্য ব্যথানাশক ও কাউন্টার-ইরিটেন্ট (ক্যাপসাইসিনয়েড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো ও তাপ থেকে দূরে, মুখ শক্ত করে বন্ধ করে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।