ব্যবহার
কোলিন শরীরের একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। কোষের আবরণ তৈরি, স্নায়ুর বার্তাবাহক অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি এবং লিভার থেকে চর্বি বের করে দিতে এটি কাজে লাগে। সাধারণ পুষ্টি, লিভারের সুস্থতা ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজের সহায়তায়, বিশেষ করে অসুস্থতার পর শরীর গড়ে তোলার সময় বা খাবারে ঘাটতি থাকলে, মাল্টিভিটামিন ও টনিক জাতীয় পণ্যে এটি যোগ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
শরীর কোলিন থেকে ফসফাটিডাইলকোলিন (লেসিথিন) তৈরি করে, যা কোষপ্রাচীরের মূল উপাদান। এ ছাড়া এটি থেকে অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি হয়, যা স্নায়ু ও পেশির মধ্যে সংকেত পৌঁছে দেয়। কোলিন লিভারকে চর্বি বাইরে পাঠাতে সাহায্য করে, ফলে লিভারে চর্বি জমা কমে। শরীর নিজে সামান্য কোলিন তৈরি করে, বাকিটা আসে ডিম, মাংস, মাছ ও ডালজাতীয় খাবার থেকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কোলিন সাধারণত অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশ্র সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খাওয়া হয়। লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সব উৎস মিলিয়ে দৈনিক প্রয়োজন নারীদের প্রায় ৪২৫ mg এবং পুরুষদের প্রায় ৫৫০ mg। লেবেলে লেখা পরিমাণের বেশি খাবেন না। খাবারের সাথে বা পরে খাওয়া ভালো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিক মাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। একাধিক ভিটামিন বা টনিক খেলে লেবেল মিলিয়ে দেখুন, যাতে একই উপাদান কয়েকবার না খাওয়া হয়। যেসব ঔষধ খাচ্ছেন সবগুলোর কথা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
কোলিন বা পণ্যের অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। ট্রাইমিথাইলঅ্যামিনিউরিয়া (শরীর থেকে মাছের মতো গন্ধ বের হওয়ার একটি বিরল রোগ) থাকলে কোলিন সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিক মাত্রায় কোলিন সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। বেশি মাত্রায় শরীরে মাছের মতো গন্ধ, ঘাম, পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া, বমিভাব বা রক্তচাপ কমে যেতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে কোলিন গুরুত্বপূর্ণ, তাই গর্ভাবস্থায় (দৈনিক প্রায় ৪৫০ mg) ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় (দৈনিক প্রায় ৫৫০ mg) এর প্রয়োজন বাড়ে। এই সময়ে কোলিনযুক্ত সাপ্লিমেন্ট কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে খান।
সতর্কতা
সাপ্লিমেন্ট সুষম খাবারের বিকল্প নয়। লেবেলে লেখা পরিমাণ মেনে চলুন। লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে, অথবা একসাথে কয়েকটি সাপ্লিমেন্ট খেলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
খুব বেশি পরিমাণে (প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক প্রায় ৩.৫ g এর বেশি) খেলে শরীরে মাছের মতো গন্ধ, অতিরিক্ত ঘাম, বমি, ডায়রিয়া এবং রক্তচাপ কমে মাথা ঘোরা হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসক বা বিষক্রিয়া কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট (ভিটামিনের মতো পুষ্টি উপাদান)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।