ব্যবহার
কনড্রয়টিন সালফেট সোডিয়াম হলো তরুণাস্থির (কার্টিলেজ) একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এই মসৃণ টিস্যু জোড়ার ভেতরে হাড়ের মাথাকে গদির মতো সুরক্ষা দেয়। মুখে খাওয়ার জন্য এটি সাধারণত গ্লুকোসামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সাথে মিলিয়ে তৈরি হয় এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিস (বয়সজনিত ক্ষয়ের বাত), বিশেষ করে হাঁটু ও কোমরের জোড়ার আরাম ও নড়াচড়ায় সহায়ক সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আলাদা একটি রূপে, কনড্রয়টিন সালফেটযুক্ত জীবাণুমুক্ত ঘন জেলের মতো দ্রবণ ছানি ও অন্যান্য চোখের অপারেশনের সময় চোখের ভেতরের অংশ রক্ষায় চক্ষু সার্জনরা ব্যবহার করেন।
কীভাবে কাজ করে
কনড্রয়টিন তরুণাস্থিকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে তা নমনীয় থাকে এবং চাপ সামলাতে পারে। এটি তরুণাস্থি ক্ষয়কারী এনজাইমের কাজ কিছুটা কমাতে ও হালকা প্রদাহ প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে। উপকার পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগে এবং গবেষণার ফল মিশ্র, তাই সবার ক্ষেত্রে সমান কাজ নাও করতে পারে। চোখের অপারেশনে এই দ্রবণ চোখের ভেতরে জায়গা ধরে রাখে এবং নাজুক টিস্যুকে যন্ত্রপাতির আঘাত থেকে রক্ষা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মুখে খাওয়ার সাপ্লিমেন্ট: প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে ৮০০ থেকে ১,২০০ mg কনড্রয়টিন সালফেট, দিনে একবার বা ভাগ করে খাবারের সাথে, অথবা লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। উপকার হচ্ছে কিনা বুঝতে ২ থেকে ৩ মাস সময় দিন।
চোখের অপারেশনের দ্রবণ: শুধু অপারেশন থিয়েটারে চক্ষু সার্জন প্রয়োজনমতো পরিমাণে ব্যবহার করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কনড্রয়টিন ওয়ারফারিন ও সম্ভবত অন্যান্য রক্ত পাতলাকারী ঔষধের প্রভাব সামান্য বাড়াতে পারে, তাই দুটো একসাথে খেলে INR (রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা) বেশি করে দেখার প্রয়োজন হতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট খান, সব চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
কনড্রয়টিন সালফেট বা পণ্যের অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। চিংড়ি বা খোলসযুক্ত সামুদ্রিক খাবারে অ্যালার্জি থাকলে লেবেল দেখে নিন, কারণ কিছু সমন্বিত পণ্যে খোলস থেকে তৈরি গ্লুকোসামিন থাকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়ার কনড্রয়টিন সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য সমস্যা:
- হালকা পেট খারাপ, বমিভাব, পেট ফাঁপা বা পাতলা পায়খানা
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- মাথাব্যথা
- চোখের পাতা বা পায়ে হালকা ফোলা (কদাচিৎ)
চোখের অপারেশনের পর অল্প সময়ের জন্য চোখের চাপ বাড়তে পারে; সার্জন তা পরীক্ষা করবেন।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে, অথবা রক্ত পাতলাকারী ঔষধ খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মুখে খাওয়ার কনড্রয়টিন সাপ্লিমেন্টের নিরাপত্তা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য নেই, তাই চিকিৎসক না বললে এড়িয়ে চলুন। চোখের অপারেশনে দ্রবণ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সার্জন নেবেন।
সতর্কতা
- হাঁপানি, রক্তপাতজনিত রোগ থাকলে বা রক্ত পাতলাকারী ঔষধ খেলে আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
- কিছু পণ্যে সোডিয়াম বা অন্যান্য খনিজ থাকে; লবণ নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে থাকলে লেবেল দেখুন।
- এটি একটি সাপ্লিমেন্ট, রোগ সারানোর ঔষধ নয়, এবং বাতের ব্যথার জন্য দেওয়া ঔষধের বিকল্প নয়।
- জোড়ার ব্যথা তীব্র বা হঠাৎ হলে, অথবা লালচে ভাব, গরম ভাব বা জ্বর থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নির্ধারিত মাত্রার বেশি খেলে সাধারণত বিপজ্জনক হয় না, তবে পেট খারাপ বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। অনেক বেশি খেয়ে ফেললে বা শিশু খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
জোড়ার স্বাস্থ্য সহায়ক সাপ্লিমেন্ট (গ্লাইকোস্যামিনোগ্লাইকান); চোখের অপারেশনে ব্যবহৃত ভিসকোইলাস্টিক উপাদান
সংরক্ষণ
ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চোখের অপারেশনের দ্রবণ প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।