ব্যবহার
ক্রোমিয়াম একটি খনিজ উপাদান, যা শরীরের খুব সামান্য পরিমাণে দরকার হয়। এটি সাধারণত মাল্টিভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্টে থাকে, যা সাধারণ পুষ্টি বজায় রাখতে ও ঘাটতি প্রতিরোধে ব্যবহার হয়। ক্রোমিয়ামের আসল ঘাটতি খুবই বিরল, মূলত যাঁরা অনেকদিন শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে খাবার পান তাঁদের হয়। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে এর প্রচার থাকলেও প্রমাণ সীমিত, এবং এটি ডায়াবেটিসের ঔষধের বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
ক্রোমিয়াম ইনসুলিনকে (যে হরমোন রক্তের শর্করা কোষে পৌঁছে দেয়) ঠিকমতো কাজ করতে সাহায্য করে, এবং শর্করা, চর্বি ও প্রোটিন ব্যবহারে ভূমিকা রাখে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্যাকেটে লেখা নিয়ম মেনে খান, সাধারণত দিনে একটি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল খাবারের সাথে। প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে সাধারণত প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ mcg দরকার হয়, আর বেশিরভাগ সাপ্লিমেন্টে এই পরিমাণ বা প্রায় ২০০ mcg পর্যন্ত থাকে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একসাথে একাধিক ক্রোমিয়ামযুক্ত পণ্য খাবেন না। শিশুদের শুধু শিশুদের জন্য তৈরি পণ্য, নির্দেশনা অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ঔষধ: ক্রোমিয়াম এদের রক্তে শর্করা কমানোর প্রভাব কিছুটা বাড়াতে পারে।
- লেভোথাইরক্সিন: ক্রোমিয়াম এর শোষণ কমাতে পারে; দুটির মাঝে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
- অ্যান্টাসিড ও এসিড কমানোর ঔষধ ক্রোমিয়ামের শোষণ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
ক্রোমিয়াম বা পণ্যের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে। কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। কারও পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব বা মাথাব্যথা হতে পারে। মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশের মতো গুরুতর এলার্জি, চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, অথবা ডায়াবেটিস থাকলে কাঁপুনি, ঘাম ও বিভ্রান্তির মতো রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার ও সাধারণ মাল্টিভিটামিনে থাকা অল্প পরিমাণ নিরাপদ বলে ধরা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বেশি মাত্রার ক্রোমিয়াম সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস থাকলে ক্রোমিয়াম শুরু করার পর রক্তে শর্করা বেশি করে মাপুন এবং ডাক্তারকে জানান। কিডনি বা লিভারের রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন। সাপ্লিমেন্ট সুষম খাবারের সহায়ক, বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি খেলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে কিডনি ও লিভারের সমস্যা হতে পারে। বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেললে খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ট্রেস এলিমেন্ট (খনিজ সাপ্লিমেন্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।