ব্যবহার
ক্লোবেটাসোন বিউটাইরেট মাঝারি শক্তির একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড) ক্রিম বা মলম। একজিমা, ডার্মাটাইটিস (জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী বস্তু বা অ্যালার্জির কারণে ত্বকের প্রদাহ), পোকামাকড়ের কামড়ের প্রতিক্রিয়া এবং স্টেরয়েডে সাড়া দেয় এমন অন্যান্য প্রদাহজনিত ত্বকের সমস্যায় লালচে ভাব ও চুলকানি কমাতে এটি ত্বকে লাগানো হয়। কিছু চোখের প্রদাহে এর আই ড্রপ চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ক্লোবেটাসোন ত্বকে লালচে ভাব, ফোলা ও চুলকানি সৃষ্টিকারী রোগপ্রতিরোধী কোষ ও রাসায়নিকের কার্যক্রম কমিয়ে দেয়। এটি আক্রান্ত স্থানের ছোট রক্তনালিও সংকুচিত করে, ফলে লালচে ভাব কমে। এটি উপসর্গ কমায়, তবে মূল রোগ সারায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য: আক্রান্ত ত্বকে দিনে সর্বোচ্চ ২ বার পাতলা করে লাগিয়ে আলতো করে ঘষে দিন। হাতের চিকিৎসা না হলে লাগানোর পর হাত ধুয়ে নিন। যত কম সময় দরকার ততটুকুই ব্যবহার করুন; প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যবহার করলে ৭ দিনে উন্নতি না হলে চিকিৎসকের কাছে যান। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। আই ড্রপ শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিকভাবে ত্বকে লাগালে খুব সামান্য শোষিত হয়, তাই প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। চিকিৎসক না বললে একই জায়গায় একই সময়ে অন্য ত্বকের পণ্য লাগাবেন না। দীর্ঘদিন বড় জায়গায় বেশি পরিমাণে লাগালে রিটোনাভির বা ইট্রাকোনাজোলের মতো ঔষধ স্টেরয়েডের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস (যেমন ঠোঁটের ঘা, জলবসন্ত বা হারপিস জোস্টার) বা ছত্রাকে সংক্রমিত ত্বকে সংক্রমণরোধী ঔষধ ছাড়া, ব্রণ, রোসেশিয়া, মুখের চারপাশের ফুসকুড়িতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মলদ্বার বা যৌনাঙ্গের চারপাশের চুলকানিতে এবং ক্লোবেটাসোনে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অল্প সময় ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। লাগানোর জায়গায় জ্বালা, চুলকানি বা অবস্থার অবনতি হতে পারে। দীর্ঘদিন বা বেশি ব্যবহারে ত্বক পাতলা হওয়া, স্ট্রেচ মার্ক, ছোট রক্তনালি দেখা যাওয়া, ত্বকের রং পরিবর্তন ও লোম বাড়তে পারে। বিরল ক্ষেত্রে, বিশেষত শিশুদের, যথেষ্ট শোষিত হয়ে শরীরের নিজস্ব হরমোন তৈরিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। ত্বকে সংক্রমণ হলে, দৃষ্টি ঝাপসা হলে বা অবস্থা স্পষ্টভাবে খারাপ হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে, অল্প সময়ের জন্য ও ছোট জায়গায় ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যায়, তবে দুধ খাওয়ানোর ঠিক আগে স্তনের আশেপাশে লাগাবেন না।
সতর্কতা
চোখে লাগা থেকে বিরত থাকুন। নির্দেশ না থাকলে আঁটসাঁট ব্যান্ডেজ বা ডায়াপারের নিচে ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে শোষণ বাড়ে। মুখ ও ত্বকের ভাঁজে সাবধানে ব্যবহার করুন, কারণ সেখানে ত্বক পাতলা। দীর্ঘ ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসক ধীরে ধীরে কমাতে পারেন। কাপড় বা বিছানায় শুকিয়ে যাওয়া ক্রিম বা মলম কাপড়কে দাহ্য করে তুলতে পারে, তাই আগুন থেকে দূরে থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অল্প পরিমাণ গিলে ফেললে সাধারণত ক্ষতি হয় না, তবে বেশি গিলে ফেললে পরামর্শ নিন। দীর্ঘদিন ত্বকে অতিরিক্ত ব্যবহারে স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে; চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার কমান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারযোগ্য কর্টিকোস্টেরয়েড (মাঝারি শক্তি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। টিউবের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।