ব্যবহার
ডেক্সকিটোপ্রোফেন একটি নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (এনএসএআইডি), যা পেশি ও গিঁটের ব্যথা, কোমর ব্যথা, মাসিকের ব্যথা, দাঁতের ব্যথা ও ছোট অস্ত্রোপচারের পরের ব্যথার মতো হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা অল্প সময়ের জন্য উপশমে ব্যবহৃত হয়। ইনজেকশন হাসপাতালে মাঝারি থেকে তীব্র তীব্র ব্যথায়, যেমন অপারেশনের পরে, ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডেক্সকিটোপ্রোফেন কিটোপ্রোফেন অণুর সক্রিয় অংশ। এটি সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইম বন্ধ করে, যা ব্যথা, ফোলাভাব ও জ্বর সৃষ্টিকারী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে। শুধু সক্রিয় রূপ দেওয়ায় কম মাত্রা লাগে এবং প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্যথা কমতে শুরু করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ট্যাবলেট (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত প্রয়োজনে প্রতি ৮ ঘণ্টায় ২৫ mg, অথবা প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টায় ১২.৫ mg। ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ mg এর বেশি খাবেন না।
- পেটে অস্বস্তি হলে খাবারের সাথে খান; খালি পেটে খেলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
- সবচেয়ে কম মাত্রায়, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য ব্যবহার করুন, সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের বেশি নয়। বয়স্ক ও লিভার বা কিডনি রোগীদের কম মাত্রা লাগতে পারে।
- ইনজেকশন: চিকিৎসক বা নার্স নির্ধারিত মাত্রায় দেন, সাধারণত ২ দিনের বেশি নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন, হেপারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, অ্যাসপিরিন, এসএসআরআই (যেমন সারট্রালিন) ও কর্টিকোস্টেরয়েডের সাথে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
- আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো অন্য এনএসএআইডির সাথে একসাথে খাবেন না।
- রক্তচাপের ঔষধ ও মূত্রবর্ধকের কার্যকারিতা কমাতে পারে, এবং এসিই ইনহিবিটর, এআরবি ও মূত্রবর্ধকের সাথে কিডনির ঝুঁকি বাড়ায়।
- লিথিয়াম ও মিথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- বর্তমান বা আগের পাকস্থলীর আলসার বা রক্তক্ষরণ, ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস।
- অ্যাসপিরিন বা অন্য এনএসএআইডিতে হাঁপানি, আংবাত বা সর্দি হলে।
- গুরুতর হার্ট ফেইলিউর, গুরুতর কিডনি বা লিভারের রোগ, রক্তক্ষরণজনিত রোগ।
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাস এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, বদহজম ও ডায়রিয়া। কম ক্ষেত্রে: মাথা ঘোরা, তন্দ্রাভাব, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, র্যাশ ও শরীরে পানি জমা। অন্য এনএসএআইডির মতো এটি পাকস্থলীতে আলসার বা রক্তক্ষরণ ঘটাতে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য বাড়াতে পারে।
রক্তবমি, কালো মল, তীব্র পেটব্যথা, বুকে ব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, শাঁ শাঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, অথবা ত্বকে ফোসকাসহ র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি শিশুর হৃদযন্ত্র ও কিডনির ক্ষতি করতে এবং প্রসব দেরি করাতে পারে। প্রথম ৬ মাসে শুধু চিকিৎসক অত্যাবশ্যক মনে করলে ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, হাঁপানি থাকলে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধান থাকুন।
- এনএসএআইডি খাওয়ার সময় নারীদের গর্ভধারণের ক্ষমতা কমাতে পারে।
- মাথা ঘোরা বা তন্দ্রাভাব হতে পারে; এমন হলে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে পেটব্যথা, বমিভাব, বমি, তন্দ্রাভাব, মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথা, এবং কদাচিৎ পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ বা কিডনির সমস্যা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (প্রোপিওনিক অ্যাসিড জাতীয়), ব্যথানাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। ইনজেকশন প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।