ব্যবহার
ডাইবেসিক ক্যালসিয়াম ফসফেট (কিছু ঔষধে ডায়াবেসিক ক্যালসিয়াম ফসফেট নামে লেখা থাকে) শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দুটোই সরবরাহ করে। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এবং রিকেটস, অস্টিওম্যালেশিয়া ও অস্টিওপোরোসিসে হাড় ও দাঁত ভালো রাখতে এটি ব্যবহার হয়, প্রায়ই ভিটামিন ডি এর সাথে। গর্ভাবস্থা, বুকের দুধ খাওয়ানো ও বেড়ে ওঠার সময় বাড়তি ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হলো হাড় ও দাঁতকে শক্ত করার প্রধান খনিজ। এছাড়া স্নায়ু, মাংসপেশি ও হৃদযন্ত্রের কাজে ক্যালসিয়াম এবং কোষে শক্তি ব্যবহারে ফসফরাস দরকার।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার ১টি করে ট্যাবলেট, খাবারের সাথে বা পরে। শিশুদের: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ক্যালসিয়াম টেট্রাসাইক্লিন ও ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, লেভোথাইরক্সিন, অ্যালেনড্রোনেটের মতো বিসফসফোনেট এবং আয়রনের শোষণ কমিয়ে দেয়। এগুলো এই ঔষধের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ ঘণ্টা পরে খান, অথবা সেই ঔষধের নির্দেশনা মেনে চলুন। থায়াজাইড ডাইউরেটিক রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়াতে পারে, আর রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি হলে ডিগক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড ফসফেটের শোষণ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- রক্তে ক্যালসিয়াম বা ফসফেটের মাত্রা বেশি থাকলে।
- ক্যালসিয়ামজনিত কিডনি পাথর থাকলে বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে।
- গুরুতর কিডনি রোগ থাকলে।
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। এলার্জির লক্ষণ (ফুসকুড়ি, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট) অথবা রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ, যেমন প্রচণ্ড পিপাসা, বারবার প্রস্রাব, বমি, বিভ্রান্তি, মাংসপেশির দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
পরামর্শকৃত মাত্রায় গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সাপ্লিমেন্ট সাধারণত ব্যবহার করা হয়। ডাক্তার যে মাত্রা বলেন শুধু সেটুকুই খান।
সতর্কতা
কিডনি রোগ, আগে কিডনিতে পাথর, সারকয়ডোসিস বা হৃদরোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান। কিডনির সমস্যায় শরীরে ফসফেট জমে যেতে পারে, তাই এমন রোগীরা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খাবেন। পরামর্শ ছাড়া একাধিক ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি জাতীয় ঔষধ একসাথে খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বা ফসফেট বেড়ে বমি বমি ভাব, বমি, পিপাসা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিভ্রান্তি ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে। খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস প্রিপারেশন (খনিজ সাপ্লিমেন্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।