ব্যবহার
ডায়াসেরিন কোমর (হিপ) ও হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের (ক্ষয়জনিত বাত) ব্যথা ও শক্ত ভাবের দীর্ঘমেয়াদি উপশমে ব্যবহার হয়। এটি ধীরে কাজ করে, তাই নিয়মিত খাওয়ার ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর সাধারণত উপকার বোঝা যায়।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে ডায়াসেরিন রেইন নামের পদার্থে পরিণত হয়, যা ইন্টারলিউকিন-১ এর কাজ কমায়। ইন্টারলিউকিন-১ গিরায় প্রদাহ ও কার্টিলেজ (তরুণাস্থি) ক্ষয় বাড়ায়। এতে ব্যথা কমে এবং কার্টিলেজের ক্ষতি কিছুটা ধীর হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত প্রথম ২ থেকে ৪ সপ্তাহ রাতের খাবারের সাথে দিনে ১ বার ৫০ mg, এরপর খাবারের সাথে দিনে ২ বার ৫০ mg, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- খাবারের সময় এক গ্লাস পানি দিয়ে ক্যাপসুল আস্ত গিলে খান।
- কম মাত্রায় শুরু করলে পাতলা পায়খানা কম হয়। পাতলা পায়খানা হলে খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
- ৬৫ বছর বা বেশি বয়সী এবং শিশুদের জন্য পরামর্শযোগ্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইডযুক্ত অ্যান্টাসিড শোষণ কমাতে পারে; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান। জোলাপ ও কিছু অ্যান্টিবায়োটিক পাতলা পায়খানা বাড়াতে পারে। ফুরোসেমাইডের মতো প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ বা ডিগক্সিনের মতো হৃদরোগের ঔষধ খাওয়ার সময় পাতলা পায়খানা হলে পটাশিয়াম কমে হৃৎস্পন্দনে সমস্যা হতে পারে।
কারা খাবেন না
- ডায়াসেরিন, অ্যানথ্রাকুইনোন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- বর্তমানে বা আগে লিভারের রোগ থাকলে।
- প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ (যেমন আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজ), অন্ত্রে বাধা, বা কারণ জানা নেই এমন পেটব্যথা থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পাতলা পায়খানা ও নরম মল খুব সাধারণ; পেটব্যথা, পেটে গ্যাস ও বমি বমি ভাবও হতে পারে। প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা বাদামি হতে পারে, এটি ক্ষতিকর নয়। চুলকানি বা র্যাশ হতে পারে।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: তীব্র বা টানা পাতলা পায়খানার সাথে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা খুব কম প্রস্রাব হয় (পানিশূন্যতার লক্ষণ), চামড়া বা চোখ হলুদ হয়, অথবা তীব্র এলার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট) দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় পরামর্শযোগ্য নয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা উচিত নয়।
সতর্কতা
- লিভারের কোনো সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান; চিকিৎসার সময় লিভারের সমস্যার লক্ষণ খেয়াল রাখুন।
- কিডনির রোগে মাত্রা কমাতে হতে পারে।
- চিকিৎসার সময় বেশি মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র পাতলা পায়খানা হতে পারে, যা থেকে পানিশূন্যতা ও পটাশিয়াম কমে যেতে পারে। পানি ও তরল খান এবং চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঔষধ (ধীরে কাজ করা ইন্টারলিউকিন-১ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।