ব্যবহার
ডাইক্লক্সাসিলিন একটি পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক। যেসব স্ট্যাফিলোককাস ব্যাকটেরিয়া পেনিসিলিনেজ (সাধারণ পেনিসিলিন নষ্টকারী এনজাইম) তৈরি করে, সেগুলোর সংক্রমণে এটি ব্যবহার হয়। ফোড়া, ফোলা পুঁজ, ইমপেটিগো, সংক্রমিত ক্ষত ও সেলুলাইটিসের মতো ত্বক ও নরম কলার সংক্রমণে এবং কখনও হাড় ও গিঁটের সংক্রমণে পরবর্তী চিকিৎসা হিসেবে এটি দেওয়া হয়। সর্দি-জ্বরের মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণ বা এমআরএসএর বিরুদ্ধে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
ডাইক্লক্সাসিলিন ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরি বন্ধ করে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। এর গঠন এটিকে পেনিসিলিনেজ এনজাইম থেকে রক্ষা করে, তাই পেনিসিলিন ও অ্যামোক্সিসিলিনে প্রতিরোধী অনেক স্ট্যাফিলোককাসের বিরুদ্ধেও এটি কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা প্রতি ৬ ঘণ্টায় ২৫০ থেকে ৫০০ mg, খালি পেটে (খাবারের ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে), এক গ্লাস পানিসহ এবং বসে বা দাঁড়িয়ে। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ডাইক্লক্সাসিলিন ওয়ারফারিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে (রক্ত জমাট পরীক্ষা দরকার) এবং কিছু ক্ষেত্রে হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতাও কমাতে পারে। প্রোবেনেসিড এর রক্তের মাত্রা বাড়ায়। টেট্রাসাইক্লিন এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। এটি মিথোট্রেক্সেটের বিষাক্ততা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
ডাইক্লক্সাসিলিন বা যেকোনো পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা সেফালোস্পোরিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে আগে গুরুতর অ্যালার্জি হয়ে থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, পেটে গ্যাস ও র্যাশ। মুখে বা যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে লিভার পরীক্ষা, কিডনি বা রক্তকণিকায় প্রভাব পড়তে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে আমবাত বা ফোসকাসহ র্যাশ, চিকিৎসার সময় বা পরে তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় পেনিসিলিন সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়; কেবল প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায় এবং শিশুর পাতলা পায়খানা বা ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে চিকিৎসককে জানান।
সতর্কতা
অ্যালার্জি, অ্যাজমা, কিডনি বা লিভারের রোগ বা অন্ত্রের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান। দীর্ঘ কোর্সে রক্ত, লিভার ও কিডনির পরীক্ষা দরকার। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বা আগেই বন্ধ করলে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে, বিশেষ করে কিডনির রোগে, অস্থিরতা বা খিঁচুনি হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক (পেনিসিলিনেজ প্রতিরোধী পেনিসিলিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।