ব্যবহার
এগশেল ক্যালসিয়াম হলো পরিশোধিত ও মিহি গুঁড়া করা মুরগির ডিমের খোসা থেকে তৈরি ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট। সাধারণত ভিটামিন ডি৩ এর সাথে মেশানো থাকে। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওপেনিয়ায় (হাড় পাতলা হওয়া) হাড়ের সুরক্ষা এবং গর্ভাবস্থা, বুকের দুধ খাওয়ানো, বাড়ন্ত শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি চাহিদা পূরণে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডিমের খোসার গুঁড়ার বেশিরভাগই ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, সাথে সামান্য ম্যাগনেসিয়াম ও স্ট্রনশিয়ামের মতো খনিজ থাকে। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের মূল উপাদান এবং পেশি, স্নায়ু ও রক্ত জমাট বাঁধার জন্যও প্রয়োজন। ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে ও হাড়ে জমা হতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেবন করুন। পণ্যগুলো সাধারণত দিনে প্রায় ৫০০ mg থেকে ১,০০০ mg ক্যালসিয়াম দেয়, প্রায়ই দুই ভাগে। ভালো শোষণের জন্য খাবারের সাথে বা খাবারের পরপর খান। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের খাবার ও সাপ্লিমেন্ট মিলিয়ে মোট ক্যালসিয়াম দিনে প্রায় ২,০০০ mg থেকে ২,৫০০ mg এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ক্যালসিয়াম টেট্রাসাইক্লিন ও কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন), লেভোথাইরক্সিন, আয়রন, জিংক ও বিসফসফোনেটের (যেমন অ্যালেনড্রোনেট) শোষণ কমায়; এগুলো অন্তত ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- থায়াজাইড ডাইইউরেটিক (যেমন হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড) রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়াতে পারে।
- ক্যালসিয়াম ডিগক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- ডিম বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- রক্তে বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে।
- ক্যালসিয়ামযুক্ত কিডনির পাথর বা গুরুতর কিডনি রোগ থাকলে।
- শরীরে ভিটামিন ডি অতিরিক্ত থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও হালকা পেটের অস্বস্তি সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ (খুব পিপাসা, বারবার প্রস্রাব, বমিভাব, বমি, বিভ্রান্তি, পেশির দুর্বলতা), পাঁজরের পাশে বা পিঠে তীব্র ব্যথা (কিডনির পাথরের সম্ভাবনা), অথবা তীব্র অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্বাভাবিক নির্ধারিত মাত্রায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ এবং প্রায়ই পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না।
সতর্কতা
- ডিমে অ্যালার্জি থাকলে ডিমের খোসা থেকে তৈরি পণ্য এড়িয়ে চলুন।
- কিডনি রোগ, কিডনির পাথর বা সারকয়েডোসিস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম পরীক্ষা করা লাগতে পারে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য ও কিডনির পাথরের ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে বমিভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, পিপাসা, বিভ্রান্তি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হৃৎছন্দের সমস্যা হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট বন্ধ করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খনিজ সাপ্লিমেন্ট, ক্যালসিয়াম প্রস্তুতি (প্রায়ই ভিটামিন ডি৩ সহ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।