ব্যবহার
ইউক্যালিপটাস তেল ইউক্যালিপটাস পাতা থেকে তৈরি একটি সুগন্ধি তেল। প্রায়ই মেন্থল, কর্পূর বা অন্যান্য তেলের সাথে মিশিয়ে এটি সর্দিতে নাক বন্ধ ও বুকে কফ জমা কমাতে ভাপ নেওয়া ও ভেপার রাবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বাম, মলম ও স্প্রেতে পেশি ব্যথা, গাঁটে ব্যথা, মচকানো ও আড়ষ্টতা অল্প সময়ের জন্য কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইউক্যালিপটাস তেলের প্রধান উপাদান সিনিওল (ইউক্যালিপটল) নাকে ঠান্ডা ও সতেজ অনুভূতি দেয়, ফলে শ্বাস নেওয়া সহজ মনে হয় এবং কফ কিছুটা পাতলা হতে পারে। ত্বকে এটি হালকা গরম বা ঠান্ডা অনুভূতি তৈরি করে, যা ভেতরের ব্যথা থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়। এসব উপকারের প্রমাণ সীমিত, এবং এটি কোনো সংক্রমণ সারায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধুমাত্র লেবেলের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। এটি ভাপ নেওয়া বা ত্বকে লাগানোর জন্য, খাওয়ার জন্য নয়।
- ভাপ নেওয়া: লেবেলে লেখা পরিমাণ (সাধারণত কয়েক ফোঁটা বা ১টি ক্যাপসুল) গরম পানিতে (ফুটন্ত নয়) দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ভাপ নিন, দিনে ২ থেকে ৩ বার। শিশুদের গরম পানি থেকে দূরে রাখুন।
- বাম ও মলম: বুক, পিঠ বা ব্যথার জায়গায় অল্প পরিমাণে আলতো করে দিনে ২ থেকে ৩ বার মালিশ করুন। পরে হাত ধুয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
নির্দেশমতো ত্বকে বা ভাপ হিসেবে ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। একসাথে একাধিক ইউক্যালিপটাস বা কর্পূরযুক্ত পণ্য ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- ইউক্যালিপটাস বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশুর মুখ বা নাকের কাছে লাগাবেন না, এতে শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসনালীর খিঁচুনি হতে পারে।
- কাটা, পোড়া বা সংক্রমিত ত্বকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বক লাল হওয়া, জ্বালা বা চুলকানি এবং চোখ বা নাকে অস্বস্তি হতে পারে। হাঁপানি রোগীদের কড়া ভাপে কখনো শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট, সাঁই সাঁই শব্দ, মুখ ফুলে যাওয়া বা ত্বকে তীব্র প্রতিক্রিয়া হলে, অথবা কোনো শিশু সামান্য পরিমাণও গিলে ফেললে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
নির্দেশমতো মাঝে মাঝে ভাপ বা মালিশ সাধারণত কম ঝুঁকির মনে করা হয়, তবে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বুকে লাগাবেন না, যাতে শিশুর সংস্পর্শে না আসে।
সতর্কতা
- ইউক্যালিপটাস তেল কখনো খাবেন না; অল্প পরিমাণও বিষাক্ত হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য।
- চোখ, নাকের ভেতর ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি থেকে দূরে রাখুন।
- শক্ত ব্যান্ডেজ বা হিটিং প্যাডের সাথে ব্যবহার করবেন না।
- উপসর্গ ৭ দিনের বেশি থাকলে বা উচ্চ জ্বর হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
তেল গিলে ফেললে মুখে জ্বালা, বমি, ঘুমভাব, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট ও অচেতনতা হতে পারে, কখনো কয়েক মিনিটের মধ্যেই। বমি করানোর চেষ্টা করবেন না; সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ ডিকনজেস্ট্যান্ট ও ত্বকে ব্যবহারের কাউন্টার ইরিট্যান্ট (সুগন্ধি তেল)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আলো ও তাপ থেকে দূরে, ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।