ব্যবহার
ফ্লুমেটাসোন পিভালেট ত্বক বা কানে ব্যবহারের একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড)। একজিমা ও কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের মতো ত্বকের রোগে প্রদাহ, লালচে ভাব ও চুলকানি কমাতে এটি ব্যবহার হয়। প্রায়ই এটি ক্লিওকুইনলের মতো সংক্রমণরোধী উপাদানের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়, যখন ত্বক বা বাইরের কানের (ওটাইটিস এক্সটার্না) প্রদাহের সাথে হালকা ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণও থাকে।
কীভাবে কাজ করে
ফ্লুমেটাসোন মাঝারি শক্তির স্টেরয়েড। এটি ত্বকে ফোলা, লালচে ভাব ও চুলকানি সৃষ্টিকারী পদার্থের নিঃসরণ কমায় এবং প্রদাহযুক্ত জায়গার ছোট রক্তনালি সঙ্কুচিত করে। মিশ্র পণ্যে যোগ করা সংক্রমণরোধী উপাদান জীবাণু নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্রিম বা ওয়েন্টমেন্ট: আক্রান্ত জায়গায় দিনে ১ বা ২ বার পাতলা করে লাগিয়ে আলতো করে মিশিয়ে দিন। কানের ড্রপ: সাধারণত আক্রান্ত কানে ২ থেকে ৩ ফোঁটা দিনে ২ বার, লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। হাতে চিকিৎসা না চললে ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে ফেলুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ১ থেকে ২ সপ্তাহের বেশি বা বড় জায়গায় ব্যবহার করবেন না, এবং নির্দেশ ছাড়া আঁটসাঁট ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ত্বকের ছোট জায়গায় ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া খুব কম।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় একই সময়ে অন্য ত্বকের পণ্য ব্যবহার করবেন না।
- বেশি পরিমাণে শোষিত হলে রিটোনাভির বা ইট্রাকোনাজল স্টেরয়েডের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- ফ্লুমেটাসোন, ক্লিওকুইনল বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
- ভাইরাসজনিত ত্বকের সংক্রমণ (জলবসন্ত, ঠোঁটের ঘা বা হারপিস), ত্বকের যক্ষ্মা, অথবা চিকিৎসা না করা ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে।
- ব্রণ, রোজাসিয়া এবং মুখের চারপাশের র্যাশ (পেরিওরাল ডার্মাটাইটিস)।
- কানের ড্রপ: কানের পর্দা ফুটো হলে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অল্প সময়ের ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। লাগানোর জায়গায় জ্বালা, হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি, চুলকানি বা শুষ্কতা হতে পারে। দীর্ঘ ব্যবহারে ত্বক পাতলা হওয়া, স্ট্রেচ মার্ক, ছোট রক্তনালি দেখা যাওয়া, ত্বকের রং হালকা হওয়া ও ব্রণের মতো দানা হতে পারে। ক্লিওকুইনলযুক্ত পণ্য ত্বক, চুল ও কাপড়ে হলুদ দাগ ফেলতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, অথবা পুঁজ, জ্বর বা তীব্র ব্যথার মতো সংক্রমণ বাড়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য এবং ছোট জায়গায় ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ছোট জায়গায় অল্প দিন ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- চোখে যাতে না লাগে; চোখের কাছে স্টেরয়েড চোখের চাপ বাড়াতে পারে।
- মুখ, ত্বকের ভাঁজ, ডায়াপারের জায়গা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা নিন।
- কারণ জানা নেই এমন র্যাশে ব্যবহার করবেন না।
- এক সপ্তাহে উন্নতি না হলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসক দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে ব্যবহারে অতিরিক্ত মাত্রা অস্বাভাবিক, তবে বড় জায়গায় দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে ব্যবহারে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। ভুলবশত গিলে ফেললে বা অতিরিক্ত ব্যবহার করলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহার্য কর্টিকোস্টেরয়েড (মাঝারি শক্তির); প্রায়ই সংক্রমণরোধী উপাদানের সাথে মিশ্র।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।