ব্যবহার
ন্যাফালিয়াম (ন্যাফালিয়াম পলিসেফালাম, যা সুইট এভারলাস্টিং বা কাডউইড নামেও পরিচিত) একটি ফুলগাছ থেকে তৈরি হোমিওপ্যাথিক প্রস্তুতি। হোমিওপ্যাথিতে এটি ঐতিহ্যগতভাবে এমন স্নায়ুব্যথায় ব্যবহৃত হয় যা কখনো অবশ ভাবের সাথে পালাক্রমে আসে, বিশেষ করে সায়াটিকা ও পা বেয়ে নামা ব্যথায়। ক্রিমে এটি অন্য হোমিওপ্যাথিক উপাদানের সাথে মিশিয়ে পা ও পায়ের পাতায় জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন ও অবশ ভাব কমাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন ডায়াবেটিসে স্নায়ুজনিত অস্বস্তি। হোমিওপ্যাথিক ঔষধের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, এবং এটি স্নায়ুব্যথার মূল কারণ সারায় না।
কীভাবে কাজ করে
হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে গাছের উপাদানকে বহুবার পাতলা করা হয়। হোমিওপ্যাথির মতে এমন পাতলা দ্রবণ সেইসব লক্ষণ কমাতে পারে যা বেশি পরিমাণে উপাদানটি নিজেই তৈরি করে। এর প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। ক্রিম হলে জায়গাটি ধুয়ে শুকিয়ে নিন, তারপর আক্রান্ত ত্বকে পাতলা করে আলতোভাবে মালিশ করুন, সাধারণত দিনে কয়েকবার। কাটা ত্বক, ক্ষত বা ঘায়ে লাগাবেন না। ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে ফেলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বকে লাগানো হোমিওপ্যাথিক প্রস্তুতির সাথে অন্য ঔষধের উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া জানা নেই। চিকিৎসকের পরামর্শমতো ব্যথা ও ডায়াবেটিসের ঔষধসহ নির্ধারিত সব ঔষধ চালিয়ে যান।
কারা খাবেন না
- ন্যাফালিয়াম, ডেইজি পরিবারের গাছ বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- যেখানে লাগাবেন সেখানকার ত্বক কাটা, সংক্রমিত বা ঘা থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। বিশেষ করে ডেইজি পরিবারের গাছে সংবেদনশীলদের ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা ফুসকুড়ি হতে পারে। জ্বালা হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। কোমর বা পায়ে ব্যথার সাথে পায়ে দুর্বলতা, প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারানো বা কুঁচকির আশেপাশে অবশ ভাব হলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার নিয়ে তথ্য খুব কম। শুধু চিকিৎসক বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন, এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনের আশেপাশে লাগাবেন না।
সতর্কতা
দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুব্যথা বা অবশ ভাবের কারণ জানতে চিকিৎসকের পরীক্ষা করান। হোমিওপ্যাথির জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা বন্ধ করবেন না। চোখ ও মুখে লাগা থেকে বিরত থাকুন। ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিন পায়ে ক্ষত বা ফোসকা আছে কিনা দেখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হোমিওপ্যাথিক ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত সেবনের সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে শিশু বেশি পরিমাণে গিলে ফেললে প্যাকেট সাথে নিয়ে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
হোমিওপ্যাথিক প্রস্তুতি।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ব্যবহারের পর টিউবের মুখ শক্ত করে বন্ধ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।