ব্যবহার
হিঙ্গাষ্টক চূর্ণ (হিঙ্গ্বাষ্টক চূর্ণ নামেও পরিচিত) একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক হজমসহায়ক চূর্ণ, যা আটটি উপাদানে তৈরি: হিং, শুঁঠ, গোলমরিচ, পিপুল, জোয়ান, জিরা, কালোজিরা ও সৈন্ধব লবণ। প্রচলিতভাবে এটি বদহজম, অরুচি, পেট ফাঁপা, গ্যাস, ঢেঁকুর ওঠা এবং খাওয়ার পর হালকা পেটে মোচড়ে ব্যবহৃত হয়। এই মিশ্রণের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, তবে এর কয়েকটি মশলা গ্যাস কমাতে পরিচিত।
কীভাবে কাজ করে
এই মশলাগুলোতে সুগন্ধি তেল থাকে, যা অন্ত্রের পেশি শিথিল করে আটকে থাকা গ্যাস বের হতে সাহায্য করে, এবং লালা, পাকস্থলীর অ্যাসিড ও হজমি রস নিঃসরণ বাড়ায়। হিং বিশেষভাবে গ্যাস কমানোর জন্য পরিচিত। সৈন্ধব লবণ স্বাদ বাড়ায় ও রুচি আরও বাড়াতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা নিবন্ধিত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন। প্রচলিতভাবে এটি ভাত ও ঘি এর প্রথম গ্রাসের সাথে মিশিয়ে, অথবা কুসুম গরম পানির সাথে খাওয়ার আগে বা খাওয়ার সময় খাওয়া হয়। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ঔষধ হিসেবে বেশি পরিমাণ মশলা পাকস্থলীর অ্যাসিড বাড়াতে পারে, ফলে ওমিপ্রাজলের মতো অ্যাসিড কমানোর ঔষধের কাজ কমতে পারে। হিং ও আদা ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি সামান্য বাড়াতে পারে এবং রক্তচাপ বা রক্তে শর্করা কমাতে পারে, তাই এসব রোগের ঔষধ খেলে সাবধান থাকুন। রক্তচাপের ঔষধ খেলে এর লবণের পরিমাণও বিবেচনায় রাখুন।
কারা খাবেন না
কোনো মশলায় অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। পাকস্থলীর আলসার, তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা রক্তক্ষরণজনিত রোগ থাকলে এড়িয়ে চলুন। নবজাতক ও ছোট শিশুকে হিংযুক্ত পণ্য দেবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বুক জ্বালা, পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া, মুখে জ্বালা ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। অ্যালার্জি বিরল।
রক্তবমি বা কালো পায়খানা হলে, পেটে তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হলে, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ঔষধ হিসেবে বেশি পরিমাণ হিং জরায়ুতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রচলিতভাবে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলা হয়। চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই চূর্ণ খাবেন না।
সতর্কতা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা কিডনির রোগের কারণে যাঁদের লবণ কম খেতে বলা হয়েছে, তাঁরা এর লবণের পরিমাণ মনে রাখুন। দীর্ঘস্থায়ী বদহজম, ওজন কমে যাওয়া, গিলতে কষ্ট বা বমি হলে চিকিৎসকের কাছে যান। অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটে জ্বালা, ডায়রিয়া বা বমি হতে পারে। লক্ষণ তীব্র হলে বা শিশু বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়ুর্বেদিক ভেষজ প্রস্তুতি (প্রচলিত হজমসহায়ক ও বায়ুনাশক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চূর্ণ আর্দ্রতা টেনে নেয়, তাই পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।