ব্যবহার
মহাদ্রাক্ষারিষ্ট একটি প্রচলিত আয়ুর্বেদিক তরল টনিক, যা মূলত আঙুর (দ্রাক্ষা) ও অন্যান্য ভেষজ দিয়ে তৈরি এবং গাঁজন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত হওয়ায় এতে স্বাভাবিকভাবে তৈরি অল্প অ্যালকোহল থাকে। প্রচলিতভাবে এটি দুর্বলতা ও ক্লান্তি, খাবারে অরুচি, অসুখের পর শক্তি ফিরে পাওয়া এবং পুরোনো কাশি ও শ্বাসের সমস্যায় সাধারণ টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, এবং এটি হাঁপানি, যক্ষ্মা, রক্তস্বল্পতা বা অন্য রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
আঙুর প্রাকৃতিক শর্করা ও উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জোগায়, আর ফর্মুলার অন্যান্য ভেষজ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী হজম, রুচি ও শ্বাসতন্ত্রকে সহায়তা করে। গাঁজন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো ভেষজের কার্যকর উপাদান বের করে আনা এবং তরলটিকে সংরক্ষণ করা। এটি ঠিক কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে ভালো গবেষণা হয়নি।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা নিবন্ধিত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন। সাধারণত খাবারের পরে, প্রায়ই সমপরিমাণ পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়া হয়। প্রতিবার সাথে দেওয়া কাপে মেপে নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এতে অল্প অ্যালকোহল থাকায় মেট্রোনিডাজল, টিনিডাজল বা অ্যালকোহলের সাথে প্রতিক্রিয়া করে এমন ঔষধের সাথে এটি খাবেন না, এবং ঘুমের ঔষধ, ঘুম আনে এমন অ্যান্টিহিস্টামিন ও অন্যান্য ঝিমুনি সৃষ্টিকারী ঔষধের সাথে সাবধান থাকুন। এর শর্করা ডায়াবেটিসের ঔষধ খাওয়া রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য খান, সব ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- আঙুর বা ফর্মুলার কোনো ভেষজে অ্যালার্জি থাকলে।
- যাদের অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা জরুরি, অ্যালকোহল আসক্তি থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিসহ।
- সক্রিয় লিভারের রোগ থাকলে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নয়।
- নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস থাকলে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লেবেলের মাত্রায় এটি সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও পেটে গরম বা জ্বালাভাব, বুক জ্বালা, পাতলা পায়খানা বা হালকা ঝিমুনি হতে পারে। ফুসকুড়ি বা চুলকানির মতো অ্যালার্জি কম দেখা যায়।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, পেটে তীব্র ব্যথা হলে, অথবা কাশির সাথে রক্ত, বেশি জ্বর বা ওজন কমা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এতে অ্যালকোহল থাকায় এবং নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা না থাকায়, ডাক্তার বিশেষভাবে পরামর্শ না দিলে গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
তিন সপ্তাহের বেশি কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে সাঁই সাঁই শব্দ বা দীর্ঘদিনের ক্লান্তি থাকলে ডাক্তার দেখান, কারণ এগুলো যক্ষ্মা, হাঁপানি বা রক্তস্বল্পতার মতো রোগের লক্ষণ হতে পারে যার সঠিক চিকিৎসা দরকার। ডায়াবেটিস রোগীরা এর শর্করার পরিমাণ হিসাবে রাখুন। কারও কারও হালকা ঝিমুনি হতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
লেবেলের চেয়ে অনেক বেশি খেলে পেটের সমস্যা, ঝিমুনি এবং অ্যালকোহল ও শর্করাজনিত প্রভাব দেখা দিতে পারে। বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশু খেলে, চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়ুর্বেদিক ভেষজ প্রস্তুতি (অরিষ্ট, গাঁজনকৃত টনিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C তাপমাত্রার নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন। তলায় কিছুটা তলানি জমা স্বাভাবিক; খাওয়ার আগে ঝাঁকিয়ে নিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।