ব্যবহার
এটি একটি খাদ্য সম্পূরক, যেখানে তরমুজজাতীয় মেলন (কিউকামিস মেলো) ফলের নির্যাস রয়েছে, যা সুপারঅক্সাইড ডিসমিউটেজ (SOD) নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমে সমৃদ্ধ, সাথে ভিটামিন ও খনিজ। শ্বেতী বা ভিটিলিগো রোগে, যেখানে ত্বকের কিছু জায়গার রং সাদা হয়ে যায়, সহায়ক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহায়তার জন্যও খাওয়া হতে পারে। এটি শ্বেতী সারায় না, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের দেওয়া চিকিৎসা যেমন ক্রিম বা আলোক চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যবহারের জন্য।
কীভাবে কাজ করে
ধারণা করা হয়, শ্বেতীতে ত্বকের রং তৈরিকারী কোষ (মেলানোসাইট) আংশিকভাবে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা ক্ষতিকর সক্রিয় অণু জমার কারণে নষ্ট হয়। মেলন নির্যাসের SOD এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ও খনিজ এই অণুগুলো নিষ্ক্রিয় করে রং তৈরিকারী কোষকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হয়। কিছু ছোট গবেষণায় আলোক চিকিৎসার সাথে সামান্য উপকার দেখা গেছে, তবে প্রমাণ সীমিত।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খান, সাধারণত দিনে এক বা দুইবার খাবারের সাথে পানি দিয়ে। কোনো ফল পেতে সাধারণত কয়েক মাস লাগে। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পরামর্শ ছাড়া একই সময়ে অন্য মাল্টিভিটামিন বা খনিজ সম্পূরক খাবেন না, এতে কিছু ভিটামিন বেশি হয়ে যেতে পারে। লেভোথাইরক্সিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক (খনিজ এগুলোর শোষণ কমায়, তাই ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যবধানে খান), অথবা ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- মেলন বা অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- যেসব অবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন বা খনিজ এড়াতে হয়, যদি না চিকিৎসক অনুমতি দেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। হালকা পেটের অস্বস্তি, বমিভাব, পেট ফাঁপা বা মলের রং বদলাতে পারে। ত্বকে অ্যালার্জি কদাচিৎ হয়।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা সারা শরীরে র্যাশ উঠলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই সমন্বয় সম্পর্কে তথ্য কম। চিকিৎসক পরামর্শ দিলে তবেই খান, এবং মোট পরিমাণ যাচাই না করে আলাদা গর্ভকালীন ভিটামিনের সাথে মেলাবেন না।
সতর্কতা
শ্বেতীর সাথে থাইরয়েড রোগ ও অন্যান্য অটোইমিউন রোগের সম্পর্ক থাকতে পারে, তাই সঠিক পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক দেখান। সাদা দাগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, কারণ সেগুলো সহজে রোদে পোড়ে। শিশুদের থেকে দূরে রাখুন, কারণ আয়রন ও অন্যান্য খনিজ বেশি পরিমাণে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমিভাব, বমি, পেটব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে। কোনো শিশু কয়েকটি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল খেয়ে ফেললে প্যাকেটসহ দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খাদ্য সম্পূরক (ভিটামিন ও খনিজসহ মেলন SOD নির্যাস)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।