ব্যবহার
মেনাকুইনন-৭ (MK-7) হলো ভিটামিন K2 এর একটি প্রাকৃতিক রূপ, যা নাটোর মতো গাঁজানো খাবারে পাওয়া যায়। সাধারণত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D3 এর সাথে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায়, অস্টিওপোরোসিস (হাড় পাতলা ও দুর্বল হওয়া) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে, এবং ক্যালসিয়ামকে ধমনীর দেয়ালে না জমিয়ে হাড়ে পাঠিয়ে রক্তনালীর সুস্থতায় এটি ব্যবহৃত হয়। ভিটামিন K এর ঘাটতি পূরণেও ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ভিটামিন K2 শরীরের কিছু প্রোটিনকে সক্রিয় করে। অস্টিওক্যালসিন নামের প্রোটিন ক্যালসিয়ামকে হাড়ের গঠনে যুক্ত করে হাড় মজবুত করে। আরেকটি, ম্যাট্রিক্স Gla প্রোটিন, রক্তনালী ও নরম টিস্যুতে ক্যালসিয়াম জমা রোধে সাহায্য করে। রক্তপাত থামানোর জমাট বাঁধার উপাদান তৈরিতেও লিভারের ভিটামিন K দরকার। MK-7 রক্তে দীর্ঘক্ষণ থাকে, তাই দিনে একবার খেলেই ভালো কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ৪৫ থেকে ১৮০ মাইক্রোগ্রাম (mcg), বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৯০ থেকে ১০০ mcg, ভালো শোষণের জন্য কিছুটা চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে, অথবা লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশমতো। সমন্বিত পণ্যে মাত্রা পণ্য অনুযায়ী নির্ধারিত।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ভিটামিন K ওয়ারফারিন ও অন্যান্য ভিটামিন K বিরোধী রক্ত পাতলাকারী ঔষধের কার্যকারিতা কমিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসক সম্মত হয়ে INR পর্যবেক্ষণ না করলে এগুলোর সাথে খাবেন না।
- অরলিস্ট্যাট, কোলেস্টিরামিনের মতো পিত্তরস বাইন্ডার ও মিনারেল অয়েল এর শোষণ কমাতে পারে।
- দীর্ঘ মেয়াদে ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক ভিটামিন K কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি (কিছু পণ্য সয়া থেকে তৈরি)
- ওয়ারফারিন বা এসিনোকুমারল গ্রহণকারী, চিকিৎসক নির্দিষ্টভাবে পরামর্শ না দিলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিক মাত্রায় সাধারণত খুব ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য সমস্যা:
- হালকা পেট খারাপ বা বমিভাব
- পেট ফাঁপা বা পাতলা পায়খানা
- কদাচিৎ ত্বকে র্যাশ
রক্ত পাতলাকারী ঔষধ খেলে রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ, যেমন পায়ে ব্যথাযুক্ত ফোলা, হঠাৎ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা মুখ বা হাত-পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা, অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ভিটামিন K স্বাভাবিক খাদ্যের অংশ, তবে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় MK-7 সাপ্লিমেন্ট সম্পর্কে তথ্য সীমিত। শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে খাবেন।
সতর্কতা
- রক্তপাত বা রক্ত জমাট বাঁধার রোগ থাকলে বা কোনো রক্ত পাতলাকারী ঔষধ খেলে শুরুর আগে চিকিৎসককে জানান।
- লিভারের রোগ বা চর্বি শোষণের সমস্যা থাকলে মাত্রা নিয়ে পরামর্শ নিন।
- সাপ্লিমেন্ট অস্টিওপোরোসিসের ব্যবস্থাপত্রের ঔষধ, ব্যায়াম ও সুষম খাবারের বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ভিটামিন K2 এর বিষাক্ততা কম; রক্ত পাতলাকারী ঔষধ না খেলে বেশি খেলেও গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম। অনেক বেশি খেলে বা ওয়ারফারিন খেলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন K2 সাপ্লিমেন্ট, হাড়ের স্বাস্থ্য সহায়ক
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।