ব্যবহার
মিউকোপলিস্যাকারাইড পলিসালফেট জেল বা ক্রিম হিসেবে ত্বকে লাগিয়ে আঘাত, মচকানো ও থেঁতলানোর ব্যথা, ফোলা ও কালশিটে দাগ কমাতে ব্যবহার হয়। উপরিতলের শিরার প্রদাহ (সুপারফিশিয়াল থ্রম্বোফ্লেবাইটিস), ভেরিকোজ ভেইনের অস্বস্তি এবং স্যালাইন বা ইনজেকশনের পর ফোলা কমাতেও এটি সাহায্য করে। শক্ত দাগ ও ফোলা টিস্যু নরম করতেও এটি সহায়ক হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
এটি হেপারিনের মতো একটি পদার্থ (হেপারিনয়েড)। ত্বকে লাগালে এটি স্থানীয়ভাবে রক্ত জমাট বাঁধা কমায়, ছোট রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহ ভালো করে, কালশিটে দাগে জমা রক্ত ভাঙতে ও শোষিত হতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়, ফলে ফোলা ও ব্যথা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য: আক্রান্ত স্থানে দিনে ১ থেকে ৩ বার জেল বা ক্রিমের একটি লম্বা ফালি (সাধারণত ৩ থেকে ৫ cm) লাগিয়ে আলতো করে মিশিয়ে দিন, অথবা লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী। শিরার প্রদাহে মালিশ না করে আলতো করে ছড়িয়ে দিন। হালকা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখা যায়। সাধারণত উপসর্গ কমা পর্যন্ত, প্রায় ১ থেকে ২ সপ্তাহ ব্যবহার করা হয়; উন্নতি না হলে চিকিৎসক দেখান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া জানা নেই। পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় একই সময়ে অন্য ক্রিম বা জেল লাগাবেন না।
কারা খাবেন না
- মিউকোপলিস্যাকারাইড পলিসালফেট, হেপারিন বা কোনো উপাদানে (যেমন প্যারাবেন) অ্যালার্জি থাকলে।
- খোলা ক্ষত, কাটা বা সংক্রমিত ত্বক, চোখ ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কখনো কখনো লাগানোর জায়গায় লালচে ভাব, চুলকানি, জ্বালা বা র্যাশ হতে পারে, যা বন্ধ করলে সাধারণত চলে যায়।
হাত বা পা লাল, গরম, ব্যথাযুক্ত ও ফোলা হলে (গভীর শিরায় রক্ত জমাট হতে পারে), হঠাৎ বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বক দিয়ে খুব অল্প শোষিত হয় এবং ক্ষতির আশঙ্কা কম, তবুও গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনের আশেপাশে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য।
- এটি গভীর শিরায় রক্ত জমাটের চিকিৎসা নয়: ফোলা ও ব্যথাযুক্ত হাত বা পায়ের জন্য চিকিৎসক দেখান।
- চোখে যাতে না লাগে; ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে নিন।
- পরামর্শ ছাড়া সাধারণত ১২ বছরের কম বয়সীদের ব্যবহার করা হয় না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। গিলে ফেললে মুখ ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারযোগ্য হেপারিনয়েড (স্থানীয় প্রদাহনাশক ও রক্ত জমাটরোধী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে রাখুন, জমাবেন না, টিউবের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।