ব্যবহার
এটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ A থেকে Z মাল্টিভিটামিন ও মাল্টিমিনারেল ট্যাবলেট (গোল্ড ধরন), যাতে প্রায়শ ৪০ বা ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের উপযোগী পরিমাণ থাকে। অপর্যাপ্ত বা অসম খাদ্যাভ্যাস, অসুখ থেকে সেরে ওঠার সময়, বার্ধক্য, মানসিক চাপ বা ভারী কাজের সময় দৈনিক পুষ্টির ঘাটতি পূরণে ও ভিটামিন ও খনিজের অভাব প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়। এটি একটি সাপ্লিমেন্ট, কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা নয়।
কীভাবে কাজ করে
প্রতিটি ট্যাবলেটে নানা ভিটামিন (A, B গ্রুপ, C, D, E ও K) ও খনিজ (ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, আয়রন, আয়োডিন, সেলেনিয়াম, কপার, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি) থাকে, কখনো কখনো লুটেইন বা লাইকোপিনও থাকে। এগুলো খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর, রক্তকণিকা তৈরি, হাড়, স্নায়ু, ত্বক ও চোখের সুস্থতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সহায়তা করে। নিয়মিত খেলে খাবারের ঘাটতি পূরণ হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: দিনে একটি ট্যাবলেট খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে, অথবা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (সিপ্রোফ্লক্সাসিন, ডক্সিসাইক্লিন, টেট্রাসাইক্লিন) ও লেভোথাইরক্সিনের শোষণ কমাতে পারে; এগুলোর সাথে অন্তত ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
- ভিটামিন K ওয়ারফারিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে; নিয়মিত একই মাত্রায় খান এবং চিকিৎসককে জানান।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই সাথে আলাদা ভিটামিন A, D বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাবেন না।
কারা খাবেন না
কোনো উপাদানে অ্যালার্জি, রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি, শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার রোগ (যেমন হিমোক্রোমাটোসিস) অথবা শরীরে আগে থেকেই ভিটামিন A বা D বেশি থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও হতে পারে:
- হালকা বমিভাব, পেট খারাপ বা কোষ্ঠকাঠিন্য
- মুখে অস্বস্তিকর স্বাদ
- উজ্জ্বল হলুদ প্রস্রাব (ভিটামিন B2 এর কারণে, ক্ষতিকর নয়)
- আয়রন থাকলে কালচে পায়খানা
মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রাপ্তবয়স্কদের মাল্টিভিটামিন গর্ভাবস্থার জন্য তৈরি নয় এবং কিছুতে ভিটামিন A এর পরিমাণ উপযুক্ত নাও হতে পারে। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা চিকিৎসকের পরামর্শে গর্ভকালীন সাপ্লিমেন্ট খাবেন।
সতর্কতা
- ধূমপায়ী বা প্রাক্তন ধূমপায়ীরা দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রার বিটা ক্যারোটিন এড়িয়ে চলুন; পণ্যে আছে কিনা চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
- কিডনির রোগ, কিডনিতে পাথর বা হৃদরোগ, থাইরয়েড বা রক্ত জমাট বাঁধার ঔষধ খেলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- সাপ্লিমেন্ট সুষম খাবারের বিকল্প নয়।
- আয়রনযুক্ত ট্যাবলেট ছোট শিশুর জন্য খুব ক্ষতিকর হতে পারে; নিরাপদে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একসাথে অনেক ট্যাবলেট খেলে, বিশেষ করে শিশু খেলে, আয়রনের বিষক্রিয়া বা অতিরিক্ত ভিটামিন A বা D এর কারণে বমি, পেটব্যথা, ঝিমুনি ও অন্যান্য গুরুতর সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মাল্টিভিটামিন ও মাল্টিমিনারেল সাপ্লিমেন্ট
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।