ব্যবহার
এটি শিশুদের জন্য তৈরি A থেকে Z মাল্টিভিটামিন ও মাল্টিমিনারেল সিরাপ। ক্ষুধামন্দা, খাওয়ায় অনীহা, অসম খাদ্যাভ্যাস, দ্রুত বেড়ে ওঠার সময় এবং অসুখ থেকে সেরে ওঠার সময় শিশুদের ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি প্রতিরোধ ও পূরণে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
সিরাপটি নানা ধরনের ভিটামিন (যেমন A, বি গ্রুপ, C, D ও E) এবং ফর্মুলা অনুযায়ী খনিজ (যেমন জিংক, আয়রন, আয়োডিন ও ক্যালসিয়াম) সরবরাহ করে। এগুলো একসাথে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, মজবুত হাড় ও দাঁত, লোহিত কণিকা তৈরি, খাবার থেকে শক্তি তৈরি, মস্তিষ্কের বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সহায়তা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী দিন; মাত্রা শিশুর বয়সের উপর নির্ভর করে। সাধারণত দিনে একবার খাবারের পর সাথে দেওয়া মাপার কাপ বা চামচ দিয়ে দেওয়া হয়। ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। নির্ধারিত মাত্রার বেশি দেবেন না, এবং পরামর্শ ছাড়া একই সময়ে অন্য ভিটামিন পণ্য দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফর্মুলায় আয়রন, জিংক বা ক্যালসিয়াম থাকলে এটি টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন বা সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এবং লেভোথাইরক্সিনের শোষণ কমাতে পারে; এগুলোর সাথে অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন A বা D যুক্ত অন্য সাপ্লিমেন্টের সাথে দেবেন না।
কারা খাবেন না
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- রক্তে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন A বা D-এর মাত্রা বেশি থাকলে
- ফর্মুলায় আয়রন থাকলে, শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার রোগে
- সিরাপের কোনো চিনি শিশু সহ্য করতে না পারলে (বংশগত শর্করা অসহিষ্ণুতা)
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ শিশুর কোনো সমস্যা হয় না। হালকা পেটের অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, নরম পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। আয়রন থাকলে পায়খানা গাঢ় রঙের হতে পারে, এটি ক্ষতিকর নয়। সিরাপে দাঁতে সাময়িক দাগ পড়তে পারে।
শিশুর র্যাশ, মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে, বা শিশু অনেকখানি খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এই পণ্য শিশুদের জন্য তৈরি। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শমতো তাঁদের জন্য তৈরি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা উচিত।
সতর্কতা
সাপ্লিমেন্ট বৈচিত্র্যময় সুষম খাবারের বিকল্প নয়। বোতল শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন: মিষ্টি সিরাপ শিশুদের আকর্ষণ করতে পারে, আর অতিরিক্ত ভিটামিন A, ভিটামিন D বা আয়রন ক্ষতিকর। ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে চিনির পরিমাণ খেয়াল রাখুন। ক্ষুধামন্দা বা বৃদ্ধি কম চলতে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অনেকখানি খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে আয়রনযুক্ত সিরাপ, বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা ও ঝিমুনি হতে পারে এবং এটি বিপজ্জনক হতে পারে। শিশু ভালো দেখালেও সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মাল্টিভিটামিন ও মাল্টিমিনারেল সাপ্লিমেন্ট (শিশুদের)
সংরক্ষণ
৩০°C-এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।