ব্যবহার
নিয়াসিনামাইড (নিকোটিনামাইড নামেও পরিচিত) ভিটামিন বি৩ এর একটি রূপ। মুখে খেলে এটি ভিটামিন বি৩ এর ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যার মধ্যে পেলাগ্রা (রোদে থাকা ত্বক খসখসে ও কালচে হওয়া, ডায়রিয়া ও বিভ্রান্তি) রয়েছে। বি-কমপ্লেক্স ও মাল্টিভিটামিনে এটি প্রায়ই থাকে। ত্বকে লাগানোর ক্রিম, জেল ও সিরামে নিয়াসিনামাইড ব্রণ, লালচে ভাব, অসমান ত্বকের রং ও কালো দাগ কমাতে এবং ত্বকের সুরক্ষা স্তর ভালো রাখতে ব্যবহার হয়। নিয়াসিনের (নিকোটিনিক অ্যাসিড) মতো এটি মুখ লাল বা গরম করে না এবং কোলেস্টেরল কমাতে ব্যবহার হয় না।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে নিয়াসিনামাইড NAD ও NADP তে পরিণত হয়। এগুলো সহায়ক অণু, যা কোষের শক্তি তৈরি ও নিজেকে মেরামত করতে লাগে। ত্বকে এটি ত্বকের নিজস্ব সুরক্ষাকারী চর্বি (সেরামাইড) তৈরিতে সাহায্য করে, প্রদাহ কমায় এবং কালো দাগ তৈরি করা রঞ্জক পদার্থের স্থানান্তর কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- সাপ্লিমেন্ট হিসেবে: প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন; মাল্টিভিটামিনে সাধারণত দৈনিক অল্প পরিমাণ থাকে।
- প্রাপ্তবয়স্কদের পেলাগ্রা ও প্রমাণিত ঘাটতিতে: সাধারণত দিনে প্রায় ৩০০ mg, কয়েক ভাগে ভাগ করে, কয়েক সপ্তাহ, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
- শিশু এবং অন্য রোগে বেশি মাত্রা: শুধু ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
- ত্বকের পণ্য (সাধারণত ২% থেকে ৫%): পরিষ্কার ও শুকনো ত্বকে দিনে ১ বা ২ বার পাতলা করে লাগান। ত্বক সংবেদনশীল হলে দিনে ১ বার দিয়ে শুরু করুন। দিনের বেলা সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় প্রতিক্রিয়া কম হয়। মুখে বেশি মাত্রায় খেলে রক্তে কার্বামাজেপিন ও প্রিমিডোনের মাত্রা বাড়তে পারে। ত্বকের পণ্য সাধারণত অন্য স্কিন কেয়ারের সাথে ব্যবহার করা যায়, তবে একসাথে অনেক শক্তিশালী সক্রিয় পণ্য ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা হতে পারে।
কারা খাবেন না
- নিয়াসিনামাইড বা পণ্যের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- সক্রিয় লিভারের রোগে মুখে বেশি মাত্রায় খাওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় মুখে খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল; কখনও বমি বমি ভাব, পেটে অস্বস্তি বা ডায়রিয়া হতে পারে। খুব বেশি মাত্রায় (দিনে কয়েক গ্রাম) লিভারের ক্ষতি হতে পারে। ত্বকে হালকা লালচে ভাব, জ্বালা, চুলকানি বা শুষ্কতা হতে পারে, বিশেষ করে শুরুর দিকে।
গুরুতর এলার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, সারা শরীরে র্যাশ, শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে, অথবা বেশি মাত্রায় খাওয়ার সময় ত্বক বা চোখ হলুদ হলে ও প্রস্রাব গাঢ় হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবার ও সাধারণ মাল্টিভিটামিনে থাকা পরিমাণ গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ। বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান। ত্বকের পণ্য সাধারণত নিরাপদ বলে ধরা হয়; নিশ্চিত না হলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
ডাক্তারের তত্ত্বাবধান ছাড়া দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খাবেন না, বিশেষ করে লিভারের রোগ থাকলে। একাধিক ভিটামিন খেলে মোট পরিমাণ হিসাব করুন। ত্বকের পণ্য প্রথমে অল্প জায়গায় লাগিয়ে দেখুন, চোখ ও কাটা-ছেঁড়া ত্বক এড়িয়ে চলুন, এবং বেশি জ্বালা হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মুখে খুব বেশি মাত্রায় খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও লিভারের সমস্যা হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ভুলবশত ত্বকের পণ্য গিলে ফেললে সাধারণত গুরুতর কিছু হয় না, তবে শিশু বেশি পরিমাণ গিলে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন বি৩ (পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন); ত্বকে ব্যবহারের স্কিন কেয়ার উপাদান।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ত্বকের পণ্য ব্যবহারের পর শক্ত করে বন্ধ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।