ব্যবহার
ননঅক্সিনল (নননক্সিনল নামেও পরিচিত) একটি সারফ্যাকট্যান্ট, অর্থাৎ সাবানের মতো একটি পদার্থ যা তরলকে ছড়াতে ও মিশতে সাহায্য করে। এই পণ্যে এটি আয়োডিনের সাথে মিলে আয়োডোফর জীবাণুনাশক দ্রবণ তৈরি করে, যা ত্বক, ক্ষত, যন্ত্রপাতি ও পৃষ্ঠ পরিষ্কারে এবং খামারে পরিচ্ছন্নতার কাজে, যেমন দুগ্ধবতী পশুর বাঁট ডুবানোতে, ব্যবহৃত হয়। এর একটি সম্পর্কিত রূপ (ননঅক্সিনল-৯) কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পণ্যে শুক্রাণুনাশক হিসেবেও পরিচিত।
কীভাবে কাজ করে
ননঅক্সিনল পানির পৃষ্ঠটান কমায়, ফলে দ্রবণ ত্বক ও পৃষ্ঠে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এটি আয়োডিনকে একটি স্থিতিশীল জটিল আকারে ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে ছাড়ে, যাতে আয়োডিন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাস মারতে পারে এবং সাধারণ আয়োডিনের চেয়ে কম জ্বালা করে। এই ব্যবহারে ননঅক্সিনলের নিজস্ব উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা গুণ নেই।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন, সেখানে প্রতিটি কাজের জন্য (ত্বক, ক্ষত, যন্ত্রপাতি বা পশুর ব্যবহার) কতটা পাতলা করতে হবে তা বলা আছে। গিলবেন না। পশুর ক্ষেত্রে লেবেল বা পশু চিকিৎসকের নির্দেশনা মানুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য জীবাণুনাশকের সাথে, বিশেষ করে পারদযুক্ত যৌগ বা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের সাথে মেশাবেন না, এতে বিক্রিয়া হতে পারে বা কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। সাবানের অবশিষ্টাংশ ও রক্ত বা ময়লার মতো জৈব পদার্থ কার্যকারিতা কমাতে পারে, তাই আগে জায়গাটি পরিষ্কার করুন।
কারা খাবেন না
আয়োডিন বা ননঅক্সিনলে অ্যালার্জি আছে এমন মানুষ বা পশু, থাইরয়েডের রোগী বা তেজস্ক্রিয় আয়োডিন চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন ব্যক্তিরা ব্যবহার করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বড় পরিসরের ক্ষত বা পোড়ায় ব্যবহার করবেন না। চোখে বা চোখের কাছে ব্যবহারের জন্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বকে জ্বালা, লাল হওয়া, শুষ্কতা, চুলকানি বা র্যাশ হতে পারে, বিশেষ করে ঘন দ্রবণ বা বারবার ব্যবহারে। আয়োডিন ত্বক ও কাপড়ে দাগ ফেলতে পারে।
মুখ বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ হলে, অথবা দ্রবণ গিলে ফেললে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বারবার বা বড় জায়গায় আয়োডিনযুক্ত পণ্য ব্যবহারে শিশুর থাইরয়েডে প্রভাব পড়তে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। ছোট জায়গায় অল্প সময়ের ব্যবহার সাধারণত কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়।
সতর্কতা
শুধু নির্দেশনা অনুযায়ী পাতলা করে ব্যবহার করুন। বড় জায়গায়, নবজাতকে এবং কিডনির সমস্যায় দীর্ঘ বা ঘন ঘন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। চোখ ও মুখ থেকে দূরে রাখুন। ঘন দ্রবণ ধরার সময় গ্লাভস পরুন। গভীর বা সংক্রমিত ক্ষতের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দ্রবণ গিলে ফেললে মুখ ও গলায় জ্বালা, পেটে ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে, আর বেশি পরিমাণে আয়োডিন বিষক্রিয়া হতে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসা নিন এবং জোর করে বমি করাবেন না।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়োডোফর জীবাণুনাশক ও বীজাণুনাশকে ব্যবহৃত সারফ্যাকট্যান্ট (নিষ্ক্রিয় বাহক উপাদান)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শক্ত করে বন্ধ পাত্রে, শুকনো জায়গায় আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।