ব্যবহার
পেপসিন একটি প্রোটিন হজমকারী এনজাইম, যা স্বাভাবিকভাবে পাকস্থলীতে তৈরি হয়। লাইপেজ, প্যানক্রিয়াটিন ও সেলুলেজের সাথে মিশ্র হজমের এনজাইমে এটি বদহজম, খাবারের পর ভারী বা পেট ভরা ভাব এবং পেট ফাঁপা কমাতে ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে মাংস, মাছ, ডিম বা ডালের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের পর।
কীভাবে কাজ করে
পাকস্থলীর ভেতরের আবরণ পেপসিনকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছাড়ে, পরে পাকস্থলীর অ্যাসিড একে সক্রিয় করে। সক্রিয় পেপসিন প্রোটিনকে ছোট ছোট অংশে (পেপটাইড) ভাঙে, যা পরে ক্ষুদ্রান্ত্রে আরও ভেঙে শোষিত হয়। খাবারের সাথে বাড়তি পেপসিন নিলে প্রোটিন হজমের এই প্রথম ধাপে সাহায্য হয়। অ্যাসিডযুক্ত পাকস্থলীতেই এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন, সাধারণত খাবারের সাথে বা ঠিক পরে। পাউডার প্যাকে লেখা নিয়মে পানি বা অন্য পানীয়তে মিশিয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড এবং ওমেপ্রাজল, এসোমেপ্রাজল বা র্যানিটিডিনের মতো অ্যাসিড কমানোর ঔষধ পাকস্থলীর অম্লতা কমায়, ফলে পেপসিনের কার্যকারিতা কমতে পারে।
- অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানা নেই। নিয়মিত অন্য ঔষধ খেলে ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
কারা খাবেন না
- পেপসিন, শূকর বা গরুজাত পণ্য (পেপসিন সাধারণত পশুর পাকস্থলী থেকে নেওয়া হয়) অথবা অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- পাকস্থলী বা ডিওডেনামে সক্রিয় আলসার থাকলে, চিকিৎসক অন্যভাবে না বললে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত পেপসিন ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও পেটে অস্বস্তি, বুক জ্বালা, বমি বমি ভাব বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। অ্যালার্জি খুব কম দেখা যায়।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়াসহ র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি অথবা পেটে তীব্র ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় পেপসিন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে তথ্য কম। শরীরে খুব সামান্যই প্রবেশ করে বলে ধারণা করা হয়, তবু ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- বদহজম বারবার ফিরে এলে, দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে, অথবা ওজন কমা, গিলতে কষ্ট, বমি বা রক্তস্বল্পতা থাকলে চিকিৎসক দেখান।
- পেপসিন আলসার বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স সারায় না এবং কারও কারও বুক জ্বালা বাড়াতে পারে।
- এনজাইম সক্রিয় রাখতে পাউডার শুকনো রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে সাধারণত বিপজ্জনক কিছু হয় না, তবে পেটের গোলমাল বা বুক জ্বালা হতে পারে। উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
হজমের এনজাইম (প্রোটিন ভাঙার এনজাইম)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।