ব্যবহার
পাইপেরিন হলো গোলমরিচের (Piper nigrum) প্রাকৃতিক উপাদান, যার কারণে গোলমরিচ ঝাঁঝালো লাগে। এটি খাদ্য সম্পূরকে ব্যবহৃত হয়, বেশিরভাগ সময় কারকিউমিনের (হলুদের নির্যাস) সাথে, মূলত শরীর যেন কারকিউমিন ও আরও কিছু পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। হলুদ ও পাইপেরিনের সম্পূরক সাধারণত গিঁটের আরাম ও সাধারণ সুস্থতার জন্য খাওয়া হয়। শুধু পাইপেরিনের স্বাস্থ্য উপকারিতার প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
অন্ত্রের দেয়াল ও লিভারের কিছু এনজাইম রক্তে পৌঁছানোর আগেই অনেক উপাদান ভেঙে ফেলে। পাইপেরিন এই এনজাইমগুলোর কাজ ধীর করে, ফলে কারকিউমিনসহ কিছু উপাদান শরীরে বেশি পরিমাণে ও বেশি সময় থাকে। এর হালকা প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাবও থাকতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবন করুন। হলুদের সম্মিলিত সম্পূরকে পাইপেরিন অল্প পরিমাণে থাকে, সাধারণত প্রতি মাত্রায় কয়েক মিলিগ্রাম। খাবারের সাথে পানি দিয়ে খান। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পাইপেরিন কিছু ঔষধের রক্তমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই ফেনিটোইন, কার্বামাজেপিন, থিওফাইলিন, প্রোপ্রানোলল, সাইক্লোস্পোরিন, ওয়ারফারিন ও অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ এবং ডায়াবেটিসের ঔষধের সাথে সাবধান থাকুন। নিয়মিত কোনো প্রেসক্রিপশনের ঔষধ খেলে পাইপেরিনযুক্ত সম্পূরক শুরুর আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
কারা খাবেন না
- গোলমরিচ বা পাইপেরিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- পাকস্থলীতে সক্রিয় আলসার বা তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে।
- যারা ফেনিটোইন, সাইক্লোস্পোরিন বা ওয়ারফারিনের মতো সূক্ষ্ম মাত্রার ঔষধ খান, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্পূরকের মাত্রায় সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। বুক জ্বালা, পেটের অস্বস্তি, গলায় জ্বালাপোড়া ও বমিভাব হতে পারে।
মুখ বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে, বা তীব্র র্যাশ উঠলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবারে স্বাভাবিক পরিমাণ গোলমরিচ নিরাপদ, তবে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ঘন পাইপেরিন সম্পূরকের নিরাপত্তা প্রমাণিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ সময় এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পাইপেরিন সম্পূরক বন্ধ করুন, কারণ এটি রক্তপাত ও অবেদনের ঔষধের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
- পিত্তথলিতে পাথর থাকলে হলুদ ও পাইপেরিন খাওয়ার আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের দেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণে খেলে পাকস্থলীতে তীব্র জ্বালা, বমি ও শ্বাসে অস্বস্তি হতে পারে। নির্ধারিত মাত্রার অনেক বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসা সহায়তা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খাদ্য সম্পূরক (শোষণ বৃদ্ধিকারী, উদ্ভিজ্জ নির্যাস)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।