ব্যবহার
প্রোকেইন পেনিসিলিন (প্রোকেইন বেনজাইলপেনিসিলিন) পেনিসিলিনের একটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ, যা পেশিতে ইনজেকশন করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে এটি মূলত পশুচিকিৎসার ইনজেকশনে বিক্রি হয়, প্রায়ই বেনজাইলপেনিসিলিন ও স্ট্রেপটোমাইসিনের সাথে মিলিতভাবে, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য প্রাণীর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায়, যেমন নিউমোনিয়া, ম্যাস্টাইটিস (ওলান ফোলা), ক্ষতের সংক্রমণ, নাভির সংক্রমণ, খুরের পচন ও বাচ্চা প্রসবের পরের সংক্রমণ। মানুষের চিকিৎসায় সিফিলিসের মতো কিছু সংক্রমণে এটি ব্যবহৃত হয়েছে, তবে তা ডাক্তারই ঠিক করেন। প্রাণীর জন্য লেবেল করা পণ্য মানুষের ব্যবহারের জন্য নয়।
কীভাবে কাজ করে
পেনিসিলিন ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। প্রোকেইন পেনিসিলিনকে আটকে রাখে এবং ইনজেকশনের জায়গা থেকে ধীরে ধীরে ছাড়ে, তাই প্রতিটি ইনজেকশনের পর প্রায় একদিন কার্যকর মাত্রা থাকে। স্ট্রেপটোমাইসিন থাকলে আরও বেশি ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাণী: শুধু লেবেলের নির্দেশনা বা পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গভীর পেশিতে ইনজেকশন দিন। মাত্রা প্রাণীর ধরন ও ওজনের উপর নির্ভর করে, এবং সাধারণত কয়েক দিন চিকিৎসা চলে। ব্যবহারের আগে ভায়াল ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন ও পরিষ্কার সুই ব্যবহার করুন। মানুষ: শুধু ডাক্তার বা নার্স দেন, মাত্রা ডাক্তার ঠিক করেন। কখনো শিরায় ইনজেকশন দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
টেট্রাসাইক্লিন ও ক্লোরোম্যামফেনিকলের মতো অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে। প্রোবেনেসিড পেনিসিলিনের মাত্রা বাড়ায়। মিশ্র পণ্যে থাকা স্ট্রেপটোমাইসিন অন্য অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড বা শক্তিশালী প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধের সাথে কিডনি ও শ্রবণশক্তির ক্ষতি বাড়াতে পারে। অন্য চিকিৎসার সাথে মেশানোর আগে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কারা খাবেন না
পেনিসিলিন বা প্রোকেইনে অ্যালার্জি আছে এমন প্রাণী বা মানুষে ব্যবহার করবেন না। গিনিপিগ, হ্যামস্টার ও খরগোশের মতো ছোট প্রাণীতে ব্যবহার করবেন না, কারণ এদের ক্ষেত্রে পেনিসিলিন পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক সমস্যা ঘটাতে পারে। পশুচিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিডনির রোগে আক্রান্ত প্রাণীতে স্ট্রেপটোমাইসিনযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা হতে পারে। অ্যালার্জি ত্বক ফোলা ও আমবাত থেকে হঠাৎ ঢলে পড়া পর্যন্ত হতে পারে। ভুল করে শিরায় চলে গেলে প্রোকেইনের প্রতিক্রিয়ায় কাঁপুনি, উত্তেজনা, খিঁচুনি বা ঢলে পড়া হতে পারে। গর্ভবতী প্রাণীতে কিছু প্রতিক্রিয়ার সাথে গর্ভপাতের সম্পর্ক দেখা গেছে।
ইনজেকশনের পর কোনো প্রাণী বা মানুষের শ্বাসকষ্ট, মুখ ফোলা, ঢলে পড়া, খিঁচুনি বা তীব্র অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত পশুচিকিৎসক বা ডাক্তারের সাহায্য নিন। পণ্যটি নাড়াচাড়ার পর বা ভুলবশত নিজের শরীরে সুই ফুটে গেলে যদি র্যাশ, মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভবতী প্রাণীতে শুধু পশুচিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন। লেবেলে লেখা প্রত্যাহারকাল পার না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসাধীন প্রাণীর দুধ মানুষের খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। মানুষের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় পেনিসিলিন সাধারণত গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়।
সতর্কতা
মানুষের খাওয়ার জন্য প্রাণী জবাই বা দুধ দোহানোর আগে লেবেলে লেখা মাংস ও দুধের প্রত্যাহারকাল মেনে চলুন। পুরো কোর্স শেষ করুন। পেনিসিলিনে অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তিরা পণ্যটি নাড়াচাড়া এড়িয়ে চলুন; গ্লাভস পরুন ও পরে হাত ধুয়ে নিন। ঔষধে জীবাণুর প্রতিরোধ কমাতে প্রয়োজন হলেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
পেনিসিলিন নিজে সাধারণত বিপজ্জনক নয়, তবে বেশি প্রোকেইন বা স্ট্রেপটোমাইসিনে স্নায়ুর লক্ষণ, কিডনি বা শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে। পশুচিকিৎসক বা ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক, দীর্ঘস্থায়ী পেনিসিলিন (বিটা-ল্যাকটাম); মূলত পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন, সাধারণত ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় বা ২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে; জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।