ব্যবহার
রেসিক্যাডোট্রিল প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হঠাৎ শুরু হওয়া (তীব্র) পাতলা পায়খানার লক্ষণ কমাতে ব্যবহৃত হয়। এটি খাবার স্যালাইন ও প্রচুর তরলের সাথে দেওয়া হয়, যা চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কীভাবে কাজ করে
রেসিক্যাডোট্রিল অন্ত্রের আবরণে এনকেফালিনেজ নামের একটি এনজাইম আটকে দেয়। ফলে এনকেফালিন নামের প্রাকৃতিক পদার্থ বেশিক্ষণ কাজ করতে পারে এবং অন্ত্রে অতিরিক্ত পানি ও লবণ নিঃসরণ কমে যায়। পাতলা পায়খানার আরও কিছু ঔষধের মতো এটি অন্ত্রের নড়াচড়া ধীর করে না, তাই কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপার সম্ভাবনা কম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণ মাত্রা ১০০ mg মুখে দিনে ৩ বার, ভালো হয় খাবারের আগে। প্রথম ডোজ যেকোনো সময় নেওয়া যায়। পরপর ২ বার স্বাভাবিক পায়খানা না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান, তবে ৭ দিনের বেশি নয়। শিশু: গ্রানিউল বা স্যাশে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শরীরের ওজন হিসেবে দেওয়া হয়। সবসময় এর সাথে খাবার স্যালাইন দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এনালাপ্রিল, র্যামিপ্রিল বা ক্যাপটোপ্রিলের মতো এসিই ইনহিবিটরের সাথে রেসিক্যাডোট্রিল খেলে অ্যানজিওইডিমা (মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া) হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আপনার সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
রেসিক্যাডোট্রিলে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। কিছু স্যাশেতে সুক্রোজ থাকে, তাই বিরল শর্করা অসহিষ্ণুতার রোগীরা সেগুলো খাবেন না। পায়খানায় রক্ত বা পুঁজ, উচ্চ জ্বর বা অ্যান্টিবায়োটিকজনিত পাতলা পায়খানায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। হতে পারে:
- মাথাব্যথা
- ত্বকে র্যাশ, লালচে ভাব বা চুলকানি
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হলে, অথবা ত্বকে গুরুতর বা ফোসকাযুক্ত প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। পানিশূন্যতার লক্ষণ, যেমন খুব কম প্রস্রাব, চোখ বসে যাওয়া, প্রচণ্ড পিপাসা বা ঝিমুনি দেখা দিলে, বিশেষ করে শিশুদের, দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
যথেষ্ট নিরাপত্তা তথ্য না থাকায় গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় রেসিক্যাডোট্রিল সুপারিশ করা হয় না। খাবার স্যালাইন নিরাপদ ও জরুরি; পরামর্শের জন্য ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
প্রাপ্তবয়স্কদের ৭ দিনের বেশি বা ছোট শিশুদের ২ দিনের বেশি পাতলা পায়খানা থাকলে, অথবা পায়খানায় রক্ত, উচ্চ জ্বর বা বারবার বমি হলে ডাক্তার দেখান। লিভার বা কিডনির সমস্যায় সাবধানে ব্যবহার করুন। রেসিক্যাডোট্রিল পাতলা পায়খানায় হারানো পানি ও লবণ পূরণ করে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি খেলে গুরুতর প্রভাব আশা করা হয় না, তবে নির্ধারিত মাত্রার অনেক বেশি খেলে, বিশেষ করে শিশু খেলে, ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়রিয়ারোধী ঔষধ (অন্ত্রের নিঃসরণরোধী, এনকেফালিনেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।