ব্যবহার
সোডিয়াম অ্যালজিনেট বুক জ্বালা, এসিড রিফ্লাক্স (পাকস্থলীর এসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসা), মুখে টক স্বাদ ও বদহজম কমাতে ব্যবহার হয়, গর্ভাবস্থার বুক জ্বালাতেও। এটি সাধারণত সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট বা পটাশিয়াম বাইকার্বোনেটের সাথে সিরাপ ও চুষে বা চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেটে থাকে।
কীভাবে কাজ করে
পাকস্থলীর এসিডের সংস্পর্শে এলে সোডিয়াম অ্যালজিনেট একটি ঘন জেল তৈরি করে, যা ভেলার মতো পাকস্থলীর খাবারের ওপর ভেসে থাকে। এই ভেলা বাধা হিসেবে কাজ করে এসিডকে খাদ্যনালিতে উঠতে দেয় না। সাথে থাকা উপাদানগুলো কিছু এসিডও নিষ্ক্রিয় করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পণ্যভেদে শক্তি আলাদা, তাই লেবেলের নির্দেশনা মানুন। প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: সিরাপ সাধারণত ১০ থেকে ২০ ml, বা ২ থেকে ৪টি ট্যাবলেট ভালো করে চিবিয়ে, খাবারের পরে ও ঘুমানোর আগে, দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার। সিরাপ খাওয়ার আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে। ৭ দিনের বেশি উপসর্গ থাকলে ডাক্তার দেখান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এই পণ্যের অ্যান্টাসিড উপাদান কিছু ঔষধের শোষণ কমাতে পারে, যেমন টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অন্যান্য কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, আয়রন ট্যাবলেট, লেভোথাইরক্সিন, ডিগক্সিন ও কিটোকোনাজোল। এসব ঔষধ এই পণ্যের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা পরে খান।
কারা খাবেন না
সোডিয়াম অ্যালজিনেট বা পণ্যের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে। রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে বা ক্যালসিয়ামজনিত কিডনির পাথর থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়ামযুক্ত পণ্য খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। কারও পেট ফাঁপা, ঢেকুর বা হালকা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর এলার্জি, রক্তবমি, কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, বুকে ব্যথা, অথবা গিলতে কষ্ট বা ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বুক জ্বালায় এটি প্রচলিতভাবে ব্যবহার হয় এবং সাধারণ মাত্রায় নিরাপদ বলে ধরা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় খাবেন না।
সতর্কতা
এই পণ্যে সোডিয়াম থাকে, কিছুতে ক্যালসিয়াম বা পটাশিয়ামও থাকে। লবণ কম খাওয়ার নিয়মে থাকলে, অথবা হার্ট ফেইলিওর, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির রোগ থাকলে খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। অকারণে ওজন কমা, গিলতে কষ্ট, বারবার বমি, বা ৫৫ বছরের পর নতুন করে বদহজম শুরু হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেট ফাঁপা ও পেটে অস্বস্তি হতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে খেলে শরীরের লবণ বা ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যালজিনেট রিফ্লাক্স প্রতিরোধক (অ্যান্টিরিফ্লাক্স ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সিরাপ জমিয়ে ফেলবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।