ব্যবহার
সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট এলার্জির উপসর্গ প্রতিরোধে ব্যবহার হয়। চোখের ড্রপ এলার্জিক কনজাংটিভাইটিসে (ধুলা, ফুলের রেণু বা মৌসুমি এলার্জিতে চোখ চুলকানো, পানি পড়া ও লাল হওয়া) ব্যবহার হয়। নাকের স্প্রে ও ড্রপ এলার্জিক রাইনাইটিসে (হাঁচি, নাক চুলকানো ও নাক দিয়ে পানি পড়া) ব্যবহার হয়; বাংলাদেশে এটি প্রায়ই জাইলোমেটাজোলিন নামের ডিকনজেস্ট্যান্টের সাথে মিলিয়ে পাওয়া যায়। কিছু রোগীর হাঁপানির টান প্রতিরোধে ইনহেলার হিসেবেও এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি মাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইজার। মাস্ট সেল হলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার এমন কোষ, যা এলার্জির উপাদানের সংস্পর্শে এলে হিস্টামিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক বের করে। সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট এই কোষগুলোকে রাসায়নিক বের করতে দেয় না, তাই এটি তাৎক্ষণিক আরাম না দিয়ে উপসর্গ প্রতিরোধ করে। পুরো কাজ পেতে কয়েক দিন নিয়মিত ব্যবহার করতে হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চোখের ড্রপ (২%): বড় ও ছোট সবার জন্য প্রতিটি চোখে ১ থেকে ২ ফোঁটা, দিনে ৪ বার। শুধু সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেটের নাকের স্প্রে: সাধারণত প্রতিটি নাসারন্ধ্রে ১ স্প্রে, দিনে ২ থেকে ৪ বার। জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত নাকের ঔষধ: লেবেল অনুযায়ী, সাধারণত প্রতিটি নাসারন্ধ্রে ১ স্প্রে বা ফোঁটা, দিনে সর্বোচ্চ ৩ বার, ৭ দিনের বেশি নয়। ইনহেলার: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। এলার্জির মৌসুমে বা এলার্জির উপাদানের সংস্পর্শে থাকাকালীন ভালো থাকলেও নিয়মিত ব্যবহার চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
শরীরে খুব অল্প শোষিত হয় বলে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত ঔষধ এমএও ইনহিবিটরের সাথে, বা ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট খাচ্ছেন এমন কেউ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না। দুটি ভিন্ন চোখের ড্রপের মাঝে অন্তত ৫ মিনিট বিরতি দিন।
কারা খাবেন না
- সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট বা প্রিজারভেটিভসহ ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত নাকের ঔষধ: প্যাকেটে লেখা বয়সের চেয়ে ছোট শিশু, ক্লোজড-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, এবং নাকের ভেতর দিয়ে অস্ত্রোপচারের পর।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চোখের ড্রপ: দেওয়ার পর অল্প সময়ের জন্য জ্বালা বা ঝাপসা দেখা। নাকের ঔষধ: নাকে অস্বস্তি, হাঁচি, নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা মুখে বাজে স্বাদ। ইনহেলার: কাশি ও গলায় অস্বস্তি। জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত ঔষধে নাক শুকিয়ে যেতে পারে, আর ৭ দিনের বেশি ব্যবহারে নাক আগের চেয়ে বেশি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশের মতো গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে, অথবা ইনহেলার নেওয়ার সাথে সাথে বুকে চাপ বা শ্বাসে শাঁ শাঁ শব্দ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খুব অল্প পরিমাণ রক্তে যায়, তাই প্রয়োজনে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত ব্যবহারযোগ্য বলে ধরা হয়; তবে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে। জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত ঔষধ গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- এটি হঠাৎ হাঁপানির টান কমায় না; সেজন্য রিলিভার ইনহেলার ব্যবহার করুন।
- চোখের ড্রপ দেওয়ার আগে নরম কন্টাক্ট লেন্স খুলে নিন এবং ১৫ মিনিট পর আবার পরুন।
- ডিকনজেস্ট্যান্টযুক্ত ঔষধ ৭ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না।
- চোখের ড্রপ বা নাকের স্প্রে অন্যের সাথে ভাগ করবেন না, এবং মুখটি চোখ বা নাকে লাগাবেন না।
- চোখে ব্যথা, আলোতে অস্বস্তি বা দৃষ্টি খারাপ হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
খুব অল্প শোষিত হয় বলে বেশি ব্যবহারে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। ছোট শিশু জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত নাকের ঔষধ গিলে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন, কারণ এতে ছোট শিশুদের ঝিমুনি ও শ্বাসের সমস্যা হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইজার (এলার্জি-প্রতিরোধী ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চোখের ড্রপ ও নাকের স্প্রে খোলার ৪ সপ্তাহ পর বা প্যাকেটে লেখা সময় পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।