ব্যবহার
ট্রায়ামসিনোলোন অ্যাসিটোনাইড একটি স্টেরয়েড, যা কয়েক রূপে ব্যবহার হয়:
- জয়েন্ট বা নরম টিস্যুতে ইনজেকশন: আর্থ্রাইটিস, বারসাইটিস ও টেন্ডনের প্রদাহে ব্যথাযুক্ত, ফোলা জয়েন্ট
- মাংসপেশিতে ইনজেকশন: মারাত্মক এলার্জি, হাঁপানি, চর্মরোগ ও অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগ, যখন ট্যাবলেট উপযুক্ত নয়
- ত্বকের ভেতরে ইনজেকশন: কেলয়েড দাগ, ছোপ ছোপ চুল পড়া (অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা) ও কিছু পুরু চর্মরোগ
- ক্রিম বা মলম: একজিমা, ডার্মাটাইটিস ও সোরিয়াসিস
- মুখের পেস্ট: মুখের ঘা
- নাকের স্প্রে: এলার্জিজনিত সর্দি
কীভাবে কাজ করে
ট্রায়ামসিনোলোন একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্টিকোস্টেরয়েড। যেখানে লাগানো বা ইনজেকশন দেওয়া হয়, সেখানে এটি অতি সক্রিয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া শান্ত করে এবং প্রদাহ, ফোলা, লালভাব ও চুলকানি কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স দেন, ডাক্তারের নির্দেশমতো। মাংসপেশির ইনজেকশন কয়েক সপ্তাহ পরপর দেওয়া হয়, আর জয়েন্টের ইনজেকশন ঘনঘন দেওয়া হয় না।
- ক্রিম বা মলম: আক্রান্ত ত্বকে দিনে ২ বা ৩ বার পাতলা করে লাগান, যত কম সময় সম্ভব।
- মুখের পেস্ট: ঘষে না দিয়ে ঘায়ের ওপর অল্প পরিমাণ আলতো করে লাগান, সাধারণত রাতে ঘুমানোর আগে এবং প্রয়োজনে খাবারের পর দিনে ২ বা ৩ বার। প্রায় এক সপ্তাহে ঘা না সারলে ডাক্তার দেখান।
- নাকের স্প্রে: লেবেলে লেখা বা পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ও রিটোনাভির স্টেরয়েডের মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- আইবুপ্রোফেন ও অ্যাসপিরিনের মতো ব্যথানাশক ইনজেকশনের স্টেরয়েডের সাথে পাকস্থলীর ঘায়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
- এটি রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, তাই ডায়াবেটিসের ঔষধের মাত্রা বদলাতে হতে পারে।
- প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ (ডাইইউরেটিক) পটাশিয়াম কমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- বেশি মাত্রার ইনজেকশনের পর ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া জীবন্ত টিকা নেবেন না।
কারা খাবেন না
- ট্রায়ামসিনোলোন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
- ইনজেকশন: চিকিৎসা না করা গুরুতর সংক্রমণ, অথবা ইনজেকশনের জায়গায় জয়েন্ট বা ত্বকে সংক্রমণ থাকলে; এটি কখনও শিরায় দেওয়া যাবে না
- ক্রিম: চিকিৎসা না করা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাসজনিত চর্মরোগ, যেমন ঠোঁটের জ্বরঠোসা, জলবসন্ত বা দাদ, এবং ব্রণ বা রোজেশিয়া
- মুখের পেস্ট: মুখ বা গলায় ছত্রাক, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশন: ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, গর্ত হয়ে যাওয়া বা রং হালকা হওয়া, মুখ লাল হওয়া, অল্প সময়ের জন্য জয়েন্টের ব্যথা বাড়া, রক্তে শর্করা বাড়া, ঘুমের সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন ও মাসিকের পরিবর্তন। বারবার বা দীর্ঘদিন ব্যবহারে ওজন বাড়া, হাড় দুর্বল হওয়া ও চোখের সমস্যা হতে পারে। ক্রিম: দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক পাতলা হওয়া, ফাটা দাগ ও ছোট রক্তনালি দেখা যাওয়া।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, ইনজেকশনের পর জয়েন্ট গরম, লাল ও খুব ব্যথা হলে বা জ্বর এলে, পেটে তীব্র ব্যথা বা কালো পায়খানা হলে, হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে, অথবা মেজাজের মারাত্মক পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ইনজেকশন শুধু তখনই দেওয়া হয় যখন ডাক্তার প্রয়োজন মনে করেন। অল্প জায়গায় অল্প সময়ের জন্য ক্রিম সাধারণত গ্রহণযোগ্য। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ইনজেকশনের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন, এবং স্তনে ক্রিম লাগাবেন না।
সতর্কতা
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পাকস্থলীর ঘা, দুর্বল হাড়, গ্লুকোমা, যক্ষ্মা বা বর্তমানে কোনো সংক্রমণ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মুখে, ব্যান্ডেজের নিচে বা বড় জায়গায় দীর্ঘদিন ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
- শিশুদের শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন, কারণ বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়তে পারে।
- বেশি মাত্রার পর আগে না হয়ে থাকলে জলবসন্ত বা হামের রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন; সংস্পর্শে এলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ক্রিম, পেস্ট বা ইনজেকশন একবার বেশি হলে সাধারণত গুরুতর ক্ষতি হয় না। দীর্ঘদিন বেশি ব্যবহার করলে রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ বাড়া, ফোলা ও দুর্বলতার মতো স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড তৈরি কমে যেতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (গ্লুকোকর্টিকয়েড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।