ব্যবহার
ট্রাইহেক্সিফেনিডিল পার্কিনসন্স রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, বিশেষ করে কাঁপুনি ও শক্ত হয়ে যাওয়ায়, একা বা লেভোডোপার সাথে। কিছু ঔষধের, মূলত অ্যান্টিসাইকোটিকের, কারণে হওয়া নড়াচড়ার সমস্যা, যেমন মাংসপেশি শক্ত হওয়া, কাঁপুনি ও অস্বাভাবিক খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
পার্কিনসন্স রোগে এবং কিছু ঔষধের কারণে মস্তিষ্কের ডোপামিন ও অ্যাসিটাইলকোলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ট্রাইহেক্সিফেনিডিল একটি অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ: এটি মস্তিষ্কে অ্যাসিটাইলকোলিনকে বাধা দিয়ে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে, ফলে কাঁপুনি ও শক্ত ভাব কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ১ mg দিয়ে শুরু, তারপর ডাক্তার কয়েক দিন পরপর প্রায় ২ mg করে ধীরে ধীরে বাড়ান।
- পার্কিনসন্স রোগ: সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ মাত্রা দিনে ৬ থেকে ১০ mg, তিন বা চার ভাগে খাবারের সাথে, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- ঔষধজনিত নড়াচড়ার সমস্যা: ডাক্তার মাত্রা ঠিক করেন, সাধারণত দিনে ৫ থেকে ১৫ mg কয়েক ভাগে।
- বয়স্কদের সাধারণত কম মাত্রা লাগে।
- হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যামিট্রিপটিলিন, ক্লোরপ্রোমাজিন, ক্লোরফেনিরামিন ও অক্সিবিউটিনিনের মতো অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবযুক্ত ঔষধ মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাব আটকে যাওয়া ও বিভ্রান্তির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়।
- মদ ও শান্তকারী ঔষধ ঘুম ঘুম ভাব বাড়ায়।
- পাকস্থলীতে মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডনের কাজ কমাতে পারে।
- একসাথে খেলে লেভোডোপার মাত্রা বদলাতে হতে পারে।
কারা খাবেন না
- ট্রাইহেক্সিফেনিডিলে এলার্জি থাকলে।
- ন্যারো-অ্যাঙ্গেল (ক্লোজড-অ্যাঙ্গেল) গ্লুকোমা থাকলে।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস থাকলে।
- অন্ত্র আটকে গেলে বা অন্ত্র অচল হলে।
- প্রোস্টেট বড় হওয়ায় প্রস্রাবে কষ্ট হলে।
- টার্ডিভ ডিসকিনেশিয়া (দেরিতে শুরু হওয়া অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া) থাকলে, কারণ এটি তা বাড়াতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে কষ্ট, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অস্থিরতা ও হৃৎস্পন্দন দ্রুত হওয়া।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন (মিথ্যা কিছু দেখা বা শোনা) বা অস্থিরতা হয়; প্রস্রাব একেবারে আটকে যায়; চোখে তীব্র ব্যথার সাথে ঝাপসা দেখা বা আলোর চারপাশে বলয় দেখা; হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হয়; গরমে শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায় (এটি ঘাম কমায়); অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এর নিরাপত্তা ভালোভাবে জানা নেই; ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধ কমাতে পারে এবং দুধে যেতে পারে, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- বয়স্কদের বিভ্রান্তি, ভুলে যাওয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনা বেশি।
- গরমে শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া ও ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন এবং যথেষ্ট পানি পান করুন।
- হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার বা কিডনির রোগ ও প্রোস্টেটের সমস্যায় সাবধানে ব্যবহার করুন; চোখের চাপ পরীক্ষা করা হতে পারে।
- ঘুম ঘুম ভাব বা ঝাপসা দেখা হলে গাড়ি চালাবেন না।
- মেজাজের উপর প্রভাবের কারণে এর অপব্যবহার হতে পারে; শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে ত্বক শুকনো, গরম ও লাল হয়ে যায়, চোখের মণি বড় হয়, হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়, জ্বর, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন এবং কখনও খিঁচুনি হয়। এটি জরুরি অবস্থা: সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিকোলিনার্জিক অ্যান্টিপার্কিনসোনিয়ান ঔষধ।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।