ব্যবহার
ভিটামিন বি১২ (কোবালামিন; সায়ানোকোবালামিন, মিথাইলকোবালামিন বা হাইড্রক্সোকোবালামিন রূপে পাওয়া যায়) ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যেমন:
- পারনিশাস এনিমিয়া, যেখানে পাকস্থলী খাবার থেকে ভিটামিন বি১২ শোষণ করতে পারে না;
- ভিটামিন বি১২ কমে যাওয়ার কারণে মেগালোব্লাস্টিক এনিমিয়ায়;
- যাঁরা খাবারে কম পান, যেমন কঠোর নিরামিষভোজী;
- পাকস্থলী বা অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর বা অন্ত্রের রোগে শোষণ কম হলে;
- দীর্ঘদিন মেটফরমিন বা অ্যাসিড কমানোর ঔষধ খাওয়ার কারণে মাত্রা কমে গেলে;
- হাত-পায়ে ঝিনঝিন, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়ার মতো স্নায়ুর সমস্যায় (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি), চিকিৎসক সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে পরামর্শ দিলে।
কীভাবে কাজ করে
সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি, ডিএনএ তৈরি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজের জন্য ভিটামিন বি১২ দরকার। শরীরে ঘাটতি হলে লোহিত কণিকা বড় ও সংখ্যায় কম হয় (এনিমিয়া) এবং স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। ভিটামিন বি১২ সেবনে শরীরের মজুদ আবার পূর্ণ হয়, ফলে স্বাভাবিক রক্তকণিকা তৈরি ও স্নায়ুর সেরে ওঠা সম্ভব হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ mcg, অথবা চিকিৎসক বা প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী। স্নায়ুর সমস্যার কিছু পণ্য দিনে কয়েক ভাগে খেতে হয়।
ইনজেকশন (পারনিশাস এনিমিয়া, তীব্র ঘাটতি বা শোষণের সমস্যায়): চিকিৎসক বা নার্স মাংসপেশিতে দেন। শুরুতে ঘন ঘন কয়েকটি ইনজেকশন, তারপর সাধারণত প্রতি ১ থেকে ৩ মাসে একটি, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। পারনিশাস এনিমিয়ায় সাধারণত আজীবন চিকিৎসা লাগে।
শিশু: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। ট্যাবলেট খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মেটফরমিন, ওমিপ্রাজল ও অন্যান্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর, র্যানিটিডিন জাতীয় অ্যাসিড কমানোর ঔষধ, কলচিসিন ও দীর্ঘদিন নিওমাইসিন খাবার থেকে শোষণ কমাতে পারে।
- ক্লোরামফেনিকল ভিটামিন বি১২-এর প্রতি রক্তের সাড়া কমাতে পারে।
- ফলিক অ্যাসিড রক্তের পরীক্ষার ফল ভালো দেখালেও চিকিৎসাহীন বি১২ ঘাটতি আড়াল করতে পারে, ফলে স্নায়ুর ক্ষতি বাড়তে পারে; তাই শুধু উচ্চ মাত্রার ফলিক অ্যাসিড শুরু করার আগে ঘাটতি পরীক্ষা করা উচিত।
কারা খাবেন না
কোবালামিন, কোবাল্ট বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। লেবার্স রোগে (চোখের স্নায়ুর একটি বংশগত রোগ) সায়ানোকোবালামিন ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। কারও কারও হালকা ডায়রিয়া, বমিভাব, চুলকানি, র্যাশ, মাথাব্যথা বা ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা হতে পারে। হাইড্রক্সোকোবালামিনে প্রস্রাব গাঢ় বা লালচে দেখাতে পারে।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শোঁ শোঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট (বিরল অ্যালার্জি, বেশিরভাগ ইনজেকশনে);
- তীব্র এনিমিয়ার চিকিৎসার শুরুতে মাংসপেশির দুর্বলতা, খিঁচুনি বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন (পটাশিয়াম কমে যাওয়া; এ অবস্থায় চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করেন);
- বুকে ব্যথা বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ভিটামিন বি১২ প্রয়োজন, এবং সাধারণ সাপ্লিমেন্ট মাত্রা নিরাপদ বলে ধরা হয়। চিকিৎসার মাত্রা শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে নিন।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে ঘাটতির কারণ খুঁজে বের করা উচিত, এবং শুরুর আগে রক্ত পরীক্ষা করা ভালো।
- তীব্র এনিমিয়ায় চিকিৎসার শুরুতে নজরদারি দরকার।
- কিডনির রোগ বা ইনজেকশনে অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- ক্লান্তি বা ঝিনঝিনির জন্য চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া নিজে থেকে ভিটামিন বি১২ খাবেন না, কারণ অন্য কোনো কারণের চিকিৎসা দরকার হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ভিটামিন বি১২-এর বিষাক্ততা খুবই কম, অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। ভুল করে বেশি খেয়ে অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন; ভিটামিন বি কমপ্লেক্স (কোবালামিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। ইনজেকশন আলো থেকে রক্ষার জন্য বাইরের বাক্সে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।