ব্যবহার
- ভিটামিন ডি এর ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়। যারা কম রোদে যান, শরীরের বেশিরভাগ ঢেকে রাখেন, যাদের ত্বক গাঢ়, বয়স্ক, ওজন বেশি, অথবা অন্ত্র বা লিভারের সমস্যা আছে, তাদের এই ঘাটতি বেশি হয়।
- শিশুদের রিকেটস ও প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালাসিয়া (নরম হাড়)।
- ক্যালসিয়ামের সাথে, অস্টিওপোরোসিস (পাতলা ও দুর্বল হাড়) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়।
- বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের এবং গর্ভাবস্থা ও দুধ খাওয়ানোর সময় নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট হিসেবে।
কীভাবে কাজ করে
ভিটামিন ডি অন্ত্রকে খাবার থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট শোষণে সাহায্য করে, যা মজবুত হাড় ও দাঁত তৈরি ও বজায় রাখতে দরকার। এটি পেশির স্বাভাবিক কাজ ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও সহায়তা করে। রোদের আলোতে ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, এবং লিভার ও কিডনি এটিকে সক্রিয় রূপে বদলে দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রতিরোধ (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত দিনে ৪০০ থেকে ১০০০ IU (১০ থেকে ২৫ মাইক্রোগ্রাম)।
- শিশু ও ছোট বাচ্চা: সাধারণত দিনে ৪০০ IU।
- ঘাটতির চিকিৎসা: রক্ত পরীক্ষার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেশি মাত্রায় দৈনিক বা সাপ্তাহিক, তারপর কম মাত্রায় চালিয়ে যাওয়া, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
শোষণ ভালো হওয়ার জন্য কিছুটা চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে খান। কিছু পণ্য সপ্তাহে বা মাসে একবার খেতে হয়; লেবেল ভালোভাবে দেখুন, এবং সাপ্তাহিক বা মাসিক মাত্রা কখনও প্রতিদিন খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড ডাইইউরেটিক ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- ক্যালসিয়াম বেশি হলে ডিগক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- অরলিস্ট্যাট, কোলেস্টাইরামিন ও তরল প্যারাফিন ভিটামিন ডি এর শোষণ কমায়।
- ফেনিটোইন, কার্বামাজেপিন, ফেনোবার্বিটাল, রিফামপিসিন ও কর্টিকোস্টেরয়েড ভিটামিন ডি এর মাত্রা কমাতে পারে, তাই বেশি মাত্রা লাগতে পারে।
- একসাথে কয়েকটি ভিটামিন ডি পণ্য খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে বা ভিটামিন ডি বিষক্রিয়ায়।
- প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি সহ ক্যালসিয়ামজাত কিডনির পাথরে, যদি না ডাক্তার অন্য পরামর্শ দেন।
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। দীর্ঘদিন বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে বমি বমি ভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামন্দা, পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি ও দুর্বলতা হতে পারে।
বিভ্রান্তি, তীব্র বমি বা দুর্বলতা, অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, কোমরের পাশে বা পিঠে তীব্র ব্যথা (কিডনির পাথর হতে পারে), অথবা তীব্র এলার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় দিনে প্রায় ৪০০ IU সাপ্লিমেন্ট সাধারণত পরামর্শ দেওয়া হয়। বেশি মাত্রা শুধু ডাক্তারের নির্দেশে খাবেন। বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের সাধারণত আলাদা ভিটামিন ডি ড্রপ লাগে।
সতর্কতা
- কিডনির রোগ, কিডনির পাথর, সারকয়েডোসিস, হৃদরোগ বা ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।
- কিডনির গুরুতর রোগে ডাক্তার ভিটামিন ডি এর ভিন্ন, সক্রিয় রূপ দিতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
সাধারণত দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে, বা ভুল করে সাপ্তাহিক বা মাসিক মাত্রা প্রতিদিন খেলে মাত্রাতিরিক্ত সেবন হয়। এতে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন (চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।