ব্যবহার
উইথানিয়া সোমনিফেরা, যা অশ্বগন্ধা নামে বেশি পরিচিত, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি গাছের মূল। প্রথাগতভাবে এটি মানসিক চাপ, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা ও সাধারণ দুর্বলতায় টনিক হিসেবে, শক্তি ও সহনশীলতা বাড়াতে এবং পুরুষদের প্রাণশক্তি ও প্রজনন ক্ষমতা কমে গেলে ব্যবহৃত হয়। কিছু আধুনিক গবেষণায় মানসিক চাপ কিছুটা কমা ও ঘুম ভালো হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবে প্রমাণ এখনও সীমিত এবং এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়।
কীভাবে কাজ করে
এর মূলে উইথানোলাইড নামের প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। ধারণা করা হয়, এগুলো শরীরের স্ট্রেস হরমোন ব্যবস্থাকে শান্ত করে (কর্টিসল কমিয়ে) চাপ সামলাতে সাহায্য করে, এবং হালকা প্রশান্তিদায়ক, প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব রাখে। একে অ্যাডাপটোজেন বলা হয়, অর্থাৎ এমন ভেষজ যা শরীরকে শারীরিক ও মানসিক চাপের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খান। মূলের নির্যাসের পণ্য সাধারণত দিনে এক বা দুইবার খাবারের সাথে খাওয়া হয়। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না, এবং পরামর্শ ছাড়া প্রায় ৩ মাসের বেশি একটানা খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ঘুমের ঔষধ, ক্লোনাজেপাম, ডায়াজেপাম, অ্যালকোহল বা অন্যান্য ঘুম আনার ঔষধের সাথে তন্দ্রা বাড়তে পারে। এটি রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ কমাতে পারে, তাই ডায়াবেটিস ও রক্তচাপের ঔষধের সাথে সাবধান থাকুন। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই লেভোথাইরক্সিন বা থাইরয়েড দমনকারী ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান। ট্যাক্রোলিমাস বা সাইক্লোস্পোরিনের মতো রোগপ্রতিরোধ দমনকারী ঔষধের কাজও কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- অশ্বগন্ধা বা বেগুন জাতীয় গাছে অ্যালার্জি থাকলে।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- লিভারের রোগ থাকলে।
- থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা থাকলে।
- লুপাস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগ থাকলে, যদি না চিকিৎসক অনুমতি দেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অল্প সময়ের ব্যবহারে সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। পেটের অস্বস্তি, পাতলা পায়খানা, বমিভাব, তন্দ্রা ও মাথাব্যথা হতে পারে। কদাচিৎ লিভারের ক্ষতির ঘটনা জানা গেছে।
চোখ বা ত্বক হলুদ হলে, প্রস্রাব গাঢ় হলে, খিদে কমে গিয়ে প্রচণ্ড ক্লান্তি লাগলে, পেটের ডান দিকের ওপরে ব্যথা হলে, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় খাবেন না, কারণ প্রথাগতভাবে বেশি মাত্রার সাথে গর্ভপাতের সম্পর্ক বলা হয়। নিরাপত্তা জানা না থাকায় বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের অন্তত ২ সপ্তাহ আগে খাওয়া বন্ধ করুন, কারণ এটি অ্যানেসথেসিয়ার প্রভাব বাড়াতে পারে। ঘুম ঘুম লাগলে গাড়ি চালানোয় সাবধান থাকুন। থাইরয়েড, লিভার বা প্রোস্টেট ক্যান্সারের মতো হরমোন সংবেদনশীল রোগ থাকলে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুধু নিবন্ধিত পণ্য কিনুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি, ডায়রিয়া, তীব্র তন্দ্রা বা রক্তচাপ কমে যেতে পারে। খাওয়া বন্ধ করুন এবং প্যাকেটসহ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ভেষজ প্রস্তুতি (অ্যাডাপটোজেন ও টনিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।