ব্যবহার
জিংক সালফেট খাবার স্যালাইনের (ORS) সাথে শিশুদের তীব্র ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এতে অসুখের সময় কমে এবং পরের কয়েক মাসে আবার ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কমে। অপুষ্টি, দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া, কিছু অন্ত্রের রোগ ও কিছু ঔষধের কারণে হওয়া জিংকের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসাতেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
জিংক একটি অণুখনিজ, যা বৃদ্ধি, ক্ষত সারানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অন্ত্রের ভেতরের আবরণ মেরামতে দরকার। ডায়রিয়ায় হারানো জিংক পূরণ হলে অন্ত্র দ্রুত সেরে ওঠে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- শিশুর ডায়রিয়া (ORS এর সাথে): ৬ মাসের কম বয়সী শিশু দিনে একবার ১০ mg; ৬ মাস বা তার বেশি বয়সী শিশু দিনে একবার ২০ mg; ১০ থেকে ১৪ দিন, ডায়রিয়া বন্ধ হলেও, অথবা ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী। ডিসপারসিবল ট্যাবলেট অল্প পানি বা মায়ের দুধে গুলিয়ে খাওয়ানো যায়।
- জিংকের ঘাটতি, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ২০ থেকে ৫০ mg এলিমেন্টাল জিংক, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- পেটে সমস্যা হলে খাবারের পরে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- জিংক টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিনসহ এই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক এবং পেনিসিলামিনের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- আয়রন ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট জিংকের শোষণ কমাতে পারে।
- দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় জিংক খেলে শরীরে কপারের মাত্রা কমে যায়।
কারা খাবেন না
জিংক সালফেট বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বমিভাব, বমি, পেটে ব্যথা, বদহজম বা মুখে ধাতব স্বাদ, বিশেষ করে খালি পেটে খেলে। খাওয়ার পরপরই শিশু বমি করতে পারে; ৩০ মিনিটের মধ্যে বমি হলে আবার একই মাত্রা দেওয়া যায়। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে কপারের ঘাটতি হয়ে রক্তস্বল্পতা ও স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে।
মারাত্মক এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে, অথবা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর পানিশূন্যতার লক্ষণ (খুব পিপাসা বা খেতে না পারা, চোখ বসে যাওয়া, প্রস্রাব কম হওয়া, খুব নেতিয়ে পড়া), পায়খানায় রক্ত, উচ্চ জ্বর বা বারবার বমি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণ পরামর্শকৃত মাত্রায় নিরাপদ। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি মাত্রা এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- ডায়রিয়ায় জিংক ORS এর বিকল্প নয়; ORS, তরল ও খাবার চালিয়ে যান এবং মায়ের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খাবেন না।
- কিডনির সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অনেক বেশি খেলে তীব্র বমিভাব, বমি, পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে শিশু কয়েকটি ট্যাবলেট গিলে ফেললে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খনিজ সাপ্লিমেন্ট (অণুখনিজ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।