Desonide
ব্যবহার
ডেসোনাইড ত্বকে লাগানোর একটি মৃদু কর্টিকোস্টেরয়েড। মৃদু হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে সংবেদনশীল জায়গায় ও শিশুদের জন্য এটি প্রায়ই বেছে নেওয়া হয়। নিচের অবস্থায় লালভাব, চুলকানি ও ফোলা কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়:
- একজিমা ও অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস
- কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস ও অ্যালার্জিজনিত র্যাশ
- সেবোরিক ডার্মাটাইটিস (মুখ বা মাথার ত্বকে লালচে, খুশকির মতো আঁশ)
- অন্যান্য হালকা প্রদাহজনিত চর্মরোগ
কীভাবে কাজ করে
ডেসোনাইড ত্বকে প্রদাহ ও চুলকানি সৃষ্টিকারী পদার্থের নিঃসরণ কমায়। এটি ছোট রক্তনালী সরু করে, ফলে লালভাব ও ফোলা কমে আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু: আক্রান্ত ত্বকে দিনে ২ বা ৩ বার পাতলা স্তর লাগিয়ে আলতো করে ঘষুন, অথবা চিকিৎসকের নির্দেশমতো। ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে নিন। নির্দেশ ছাড়া আঁটসাঁট ব্যান্ডেজ বা শিশুর ক্ষেত্রে আঁটসাঁট ডায়াপার দিয়ে ঢাকবেন না। ত্বক ভালো হলে বন্ধ করুন, এবং ২ সপ্তাহে উন্নতি না হলে চিকিৎসকের কাছে যান (পর্যালোচনা ছাড়া সর্বোচ্চ ৪ সপ্তাহ)।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খুব অল্প শোষিত হয় বলে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় একসাথে অন্য স্টেরয়েড বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী ত্বকের পণ্য ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- ডেসোনাইড বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- চিকিৎসা না হওয়া ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাসজনিত ত্বকের সংক্রমণে
- ব্রণ, রোসেসিয়া বা পেরিওরাল ডার্মাটাইটিসে (মুখের চারপাশে র্যাশ)
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লাগানোর জায়গায় হালকা জ্বালা, চুলকানি, শুষ্কতা বা অস্বস্তি হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক পাতলা হওয়া, স্ট্রেচ মার্ক, ছোট রক্তনালী দেখা যাওয়া ও ত্বকের রং বদলাতে পারে, তবে শক্তিশালী স্টেরয়েডের তুলনায় এর সম্ভাবনা কম।
মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে, অথবা ত্বক গরম, ব্যথাযুক্ত, ফোলা হলে বা পুঁজ বের হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে, ছোট জায়গায় অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ালে স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- শুধু ত্বকে ব্যবহারের জন্য; চোখ ও মুখ থেকে দূরে রাখুন।
- শিশুদের ত্বক বেশি শোষণ করে; সবচেয়ে কম পরিমাণে, সবচেয়ে কম সময় ব্যবহার করুন।
- প্রেসক্রিপশন ছাড়া মুখ, কুঁচকি ও বগলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না।
- র্যাশ ছড়িয়ে পড়লে বা সংক্রমিত মনে হলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দীর্ঘদিন বেশি লাগালে উপরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। ভুলে গিলে ফেললে চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের কর্টিকোস্টেরয়েড (মৃদু, কম শক্তির)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Desonide এর সব ব্র্যান্ড