Neem
ব্যবহার
নিম (আজাদিরাকটা ইন্ডিকা) একটি গাছ, যার পাতা, বাকল, বীজের তেল ও নির্যাস প্রচলিত চিকিৎসায় এবং ত্বক, চুল ও মুখের যত্নের পণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। নিমের প্রস্তুতি প্রচলিতভাবে ব্যবহার করা হয়:
- ব্রণ, ফুসকুড়ি ও তৈলাক্ত ত্বকে (ক্রিম, ফেসওয়াশ, ক্যাপসুল)
- চুলকানি, ত্বকের হালকা সংক্রমণ ও খুশকিতে
- মাড়ি ও দাঁতের যত্নে (টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ)
- প্রাকৃতিক পোকানিবারক হিসেবে ও উকুনে (তেলভিত্তিক পণ্য)
বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। নিম ত্বকের সংক্রমণ, খোসপাঁচড়া বা সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন এমন অন্য রোগ সারায় না।
কীভাবে কাজ করে
নিমে নিম্বিডিন, নিম্বিন ও আজাদিরাকটিনের মতো তেতো উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। ল্যাবরেটরি গবেষণায় এগুলোর জীবাণুনাশক, ছত্রাকনাশক ও প্রদাহনাশক গুণ দেখা গেছে, যা প্রদাহযুক্ত ত্বক শান্ত করতে এবং ত্বক ও মুখের জীবাণু কমাতে সাহায্য করতে পারে। আজাদিরাকটিন পোকামাকড় তাড়ায় ও ক্ষতি করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শমতো ব্যবহার করুন। ত্বক ও চুলের পণ্য আক্রান্ত জায়গায় নির্দেশমতো লাগান এবং লেবেলে বলা থাকলে ধুয়ে ফেলুন। মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট শুধু লেবেলের মাত্রায় অল্প দিনের জন্য খান। নিমের তেল কখনো মুখে খাবেন না এবং কখনো শিশু বা ছোট বাচ্চাকে দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খেলে নিম রক্তে শর্করা কমাতে পারে এবং ইনসুলিন ও মেটফরমিনের মতো ডায়াবেটিসের ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে। এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সাইক্লোস্পোরিন বা ট্যাক্রোলিমাসের মতো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানো ঔষধ খেলে বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন। ত্বকে অল্প সময় ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের চেষ্টার সময় (মুখে খাওয়া নিম উর্বরতা ও গর্ভাবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে)
- শিশু ও ছোট বাচ্চা (মুখে নিমের তেল গুরুতর বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে)
- নিমে অ্যালার্জি থাকলে
- অটোইমিউন রোগ বা অঙ্গ প্রতিস্থাপন হলে, মুখে খাওয়ার পণ্য চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বকে: জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, চুলকানি বা অ্যালার্জিক ফুসকুড়ি হতে পারে। মুখে: পেট খারাপ, বমিভাব এবং বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন ব্যবহারে লিভার বা কিডনির সমস্যা ও রক্তে শর্করা কমে যাওয়া।
শিশু নিমের তেল গিলে ফেললে, অথবা কারও বমি, ঝিমুনি, খিঁচুনি, চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের চেষ্টার সময় নিম মুখে খাবেন না। নিরাপত্তা প্রমাণিত না হওয়ায় বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এড়িয়ে চলুন। ত্বকের ছোট জায়গায় অল্প সময় প্রসাধনী পণ্য ব্যবহারে ঝুঁকি কম, তবে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন।
সতর্কতা
- প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট জায়গায় পরীক্ষা করুন।
- চোখ থেকে দূরে রাখুন।
- ব্রণ তীব্র হলে বা দাগ পড়লে, ত্বকের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে বা জ্বর হলে, অথবা পরিবারের কয়েকজনের চুলকানি হলে (খোসপাঁচড়া হতে পারে) চিকিৎসকের কাছে যান।
- মুখে খাওয়ার পণ্য দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নিমের তেল গিলে ফেললে, বিশেষ করে শিশুদের, বমি, ঝিমুনি, খিঁচুনি এবং লিভার ও মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন এবং প্যাকটি সঙ্গে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ প্রস্তুতি (ত্বকের যত্ন, জীবাণুনাশক ও ছত্রাকনাশক উদ্ভিজ্জ নির্যাস)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Neem এর সব ব্র্যান্ড